দুই মাস পর গতি ফিরছে নরসিংদীর কলকারখানায়

দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর অবশেষে স্বাভাবিক গতি ফিরতে শুরু করেছে নরসিংদীর কলকারখানায়। কক্সবাজারের মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ক্ষতি কাটিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোতে ফিরছে স্বস্তি। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের আশা—আগামী এক-দুদিনের মধ্যে গ্যাসের চাপ পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছাবে।
চলতি বছরের ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কক্সবাজারের মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল। ফলে প্রভাব পড়ে শিল্পনগরী নরসিংদীসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় পুনরায় সক্ষমতায় ফিরেছে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধির ফলে ক্রমেই স্বাভাবিক হচ্ছে নরসিংদীর উৎপাদনমুখী কলকারখানা। সেই সঙ্গে সিএনজি পাম্প ও বাসাবাড়িতেও ফিরছে স্বস্তি।
কারখানা শ্রমিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মালিকপক্ষের ক্রমাগত ক্ষতির প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের মাঝেও। শনিবার থেকেই গ্যাসের চাপ বৃদ্ধির ফলে খুলতে শুরু করেছে গ্যাসনির্ভর কলকারখানাগুলো। এতে পুরোদমে উৎপাদনে ফিরলে লাভবান হবেন মালিক-শ্রমিক উভয়ই। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থায়ও ফিরবে স্বস্তি।
তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার থেকেই নরসিংদীতে শিল্পকারখানায়, সিএনজি পাম্প ও বাসাবাড়িতে গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ফলে নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ৫০ পিএসআই গতিতে গ্যাস সরবরাহ করলে সব পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।
নরসিংদী তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ম্যানেজার মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় নরসিংদী, মাধবদী ও চাউয়ালের টেক্সটাইল, ডাইং, স্পিনিং এবং সাইজিং মিলগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। তবে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফেরার আশা তৈরি হয়েছে।

