সুনামগঞ্জের সেই তিন স্কুলের সকল শিক্ষককে শোকজ

সংসদ সদস্য (এমপি) কামরুজ্জামান কামরুলের আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় ১২ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ওই তিন বিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন। বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
নোটিশ পাওয়া শিক্ষকরা হলেন, আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বীপা রানী তালুকদার, সহকারী শিক্ষক জেসমিন আক্তার, রাজীব চন্দ্র রায়, রুবেল তালুকদার, দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনি রানী রায়, সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার, মানিক সরকার, রনবীর সরকার এবং কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমা স্যানাল, সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় কুমার পাল, জলি রানী সরকার ও স্মৃতি দে।
এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করতে মধ্যনগরে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল দেখতে চেয়েছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ। সকালে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার আবিদনগর, দুগনই ও কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে একজন শিক্ষককেও পাননি তিনি।
জানা গেছে, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল প্রথমে সকাল সাড়ে ৯টায় মধ্যনগর উপজেলার আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। কিন্তু কোনো শিক্ষককে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাননি। এরপর ৯টা ৪২ মিনিটে একই এলাকার দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও কোনো শিক্ষক পাননি। পরে সকাল ১০টায় কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েও কোনো শিক্ষক পাননি এবং বিদ্যালটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের সামনে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময় শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাৎক্ষণিক তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং বিষয়টি দেখার জন্য বলেন।
এমপি কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আজ সকালে মধ্যনগরে যাচ্ছিলাম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ দেখতে তিনটি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, কোনো স্কুলেই শিক্ষক পাইনি। বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময়েও শিক্ষকরা অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছি।