এগিয়ে এল বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা তানভীরের জামিন শুনানি

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের জামিন আবেদনের শুনানির তারিখ আট দিন এগিয়ে এনেছেন আদালত। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা এগিয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫ কৌশিক খন্দকারের আদালত শুনানির তারিখ এগিয়ে নেওয়ার এ আদেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন তানভীর।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৭ আগস্ট বগুড়া সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীরের জামিন আবেদন নাকচ করেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি মিস কেস করেন তার আইনজীবীরা। তখন জামিন আবেদনের শুনানির জন্য ৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছিল।
তবে তানভীরের শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে সোমবার শুনানির তারিখ এগিয়ে নিতে বিশেষ পিটিশন দেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে আগামী ১ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী বলেন, তানভীর প্যানিক ডিজঅর্ডার, মাথাব্যথা ও সারভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তিনি দুবার আইসিইউতে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, গত ১৫ আগস্ট কারাগারে থাকা অবস্থায় তানভীর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত জামিন শুনানির প্রয়োজন হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই শুনানির আবেদন করা হয়েছিল।
তবে তানভীরের ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নাকচ করেছেন বগুড়া জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার মোছা. রুকাইয়া পারভীন। তিনি বলেন, তানভীর অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি হাত-পা অবশ হয়ে আসার কথা জানালে কারা চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মনিপুরী পাড়ার একটি বাসা থেকে তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই তাকে বগুড়ার আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।



