পিরোজপুরে এক হাজার হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ, ২০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালি ইউনিয়নের কৈবর্তখালি গ্রাম এখন সূর্যমুখীর হাসিতে ভরপুর। যেখানে একসময় ছিল শুধুই ধানক্ষেত, সেখানে আজ জন্ম নিয়েছে কৃষকের নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির এই অপূর্ব রূপ সৌন্দর্য আর কৃষকের স্বপ্ন মিলেমিশে কৈবর্তখালি গ্রামটি এখন যেন এক জীবন্ত উৎসবের আঙিনা। এ দৃশ্য পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের কৈবর্তখালী গ্রামের। হলুদের সমারোহে সাজানো এই মাঠ যেন প্রকৃতির এক অনন্য ক্যানভাস।
সূর্যমুখী চাষে কৃষকের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রামটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় এবং জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত দর্শনার্থীরা ভিড় করেন সূর্যমুখীর এই মাঠে। সূর্যমুখীর এমন বিস্তীর্ণ চাষ শুধু সদর উপজেলায় নয় বরং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চাষ করা হয়েছে। একসময় যেখানে ধান কিংবা অন্যান্য ফসল ছিল প্রধান, সেখানে এখন জায়গা করে নিচ্ছে সূর্যমুখী চাষ। কম খরচ, কম শ্রম আর লাভজনক ফসল হওয়ার কারণে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এই চাষে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ৭ উপজেলায় প্রায় ৯৮৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। এবারে বীজ উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে দুই থেকে আড়াই টন। যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।
কৃষকরা বলছে, পর্যাপ্ত সরকারি প্রণোদনা ও কার্যকর সহায়তা, বিনা সুদে ঋণ মিললে এই সম্ভাবনাময় চাষে স্থানীয় কৃষকরা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবে। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের কৃষি কার্ড পেলে কৃষকরা আরও বেশি চাষাবাদে আগ্রহী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বিকেল হলেই কৈবর্ত্যখালী গ্রামের এই সূর্যমুখী ক্ষেত পরিণত হয় দর্শনার্থীদের মিলনমেলায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে ঘুরতে আসেন, ছবি তোলেন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। স্থানীয়দের মতে, এই ক্ষেতটি এখন এলাকার একটি ছোট পর্যটন কেন্দ্র।
সূর্যমুখী চাষি খোকন হোসেন বলেন, আমরা প্রতিবছর শুধু ধান উৎপাদন করি কিন্তু এই বছর প্রথম সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ দিয়ে সহায়তা করেছে। সরকার যদি আমাদের সহজ শর্তে ঋণ দিত তাহলে ভালো হতো। তবে আমাদের দেখাদেখি আগামীতে আরও অনেক চাষি সূর্যমুখী আবাদ করবে বলে জানিয়েছে।
স্থানীয় অন্য এক চাষি মোস্তফা হাওলাদার বলেন, আমি এক বিঘায় সূর্যমুখী আবাদ করেছি এ বছর। এর আগে কখনও সূর্যমুখী চাষ করেনি। সূর্যমুখী চাষ অনেক লাভজনক। শুনেছি সরকার কৃষি কার্ড দিচ্ছে যদি আমাদের এলাকায় কৃষি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করত তাহলে ভালো হতো। সূর্যমুখী তেল অনেক উপকারী, নিজের পরিবারের জন্য তেল রেখে বাকিটা বিক্রি করে দেব।
অন্য আরেক চাষি রফিক উদ্দিন বলেন, সূর্যমুখী চাষ বেশি লাভজনক। সূর্যমুখী চাষ করেছি ফলন ভালো হয়েছে। আর কিছুদিন পরেই পরিপূর্ণভাবে তেল উৎপাদনের জন্য তৈরি হবে। সূর্যমুখী শুধু একটি ফসল নয়, ফুল ফোটার পর এলাকায় অনেক মানুষ ঘুরতে আসে। অনেক দূর থেকেও ঘুরতে আসে, ছবি তোলে আমাদের কাছেও দেখে ভালো লাগে।
জেলার নেছারাবাদ উপজেলা থেকে ঘুরতে এসেছেন সুমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, নেছারাবাদ থেকে ঘুরতে এসেছি এই সূর্যমুখী ফুলের বাগানে। অনেক সুন্দর লাগছে পরিবারের সঙ্গে এসে। সূর্যমুখী ফুল দেখতে অনেক ভালো লাগে অনেক ছবি তুলেছি, অনেক সুন্দর।
পিরোাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, কৃষকদের বীজ সরবরাহ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে। পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যে পরিমাণ সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে তার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। আগামী বছর সূর্যমুখীর আবাদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।