রাজশাহী/শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাহাদুল হকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃত্যুর প্রায় এক বছর আগে তার ডায়েরিতে লেখা একটি বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ আলীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বানেশ্বর বাজার এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সাহাদুল হকের মৃত্যু হয়। স্থানীয়ভাবে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোক বা শারীরিক অসুস্থতার কথা বলা হলেও সম্প্রতি তার ডায়েরিতে লেখা একটি বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ডায়েরির পাতায় ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ‘হলফনামা’ শিরোনামে সাহাদুল হক তার সম্ভাব্য মৃত্যুর বিষয়ে কিছু কথা লিখে যান। সেখানে ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক কিংবা অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ আলীকে দায়ী করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই লেখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন।
আন্দোলনরত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির বলেন, সাহাদুল স্যার শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রাখা হচ্ছিল বলে তারা শুনেছেন। মৃত্যুর আগে ডায়েরিতে প্রধান শিক্ষকের নাম উল্লেখ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
আরেক শিক্ষার্থী তানভীর আক্তারের অভিযোগ, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষককে ছুটি দেওয়া হতো না। এমনকি ছুটির দিনেও তাঁকে বিদ্যালয়ে ডেকে রাখা হতো বলে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই শিক্ষার্থী।
আন্দোলনরত রাশেদুল ইসলাম বলেন, সাহাদুল হকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মৃত শিক্ষকের স্ত্রী মোছা. শারমিন আক্তারের অভিযোগ, চাকরির সময় তার স্বামীর সঙ্গে প্রধান শিক্ষক খারাপ আচরণ করতেন। বাসায় ফিরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তেন। অফিসে ডেকে গালাগাল করা এবং অসুস্থতার সময়ও ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
মৃত শিক্ষকের বড় মেয়ে তাসফিয়া তারিন সেফারও অভিযোগ করেন, তার বাবাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপে রাখা হতো। ছুটির দিনেও রাত পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আটকে রাখা এবং এসএসসি পরীক্ষার সময় চুরির অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ আলী। মুঠোফোনে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহাবুব সরকার জনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

