মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সাচিং প্রু জেরী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। তাকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাচিং প্রু জেরীর মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবরে বান্দরবানে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর বান্দরবান থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়াকে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি গত ১ জুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নোটিশেও তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীর নাম চূড়ান্ত হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে।
সাচিং প্রু জেরী বান্দরবানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি বোমাং রাজপরিবারের সদস্য এবং বান্দরবানের স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয়। বিভিন্ন সময় স্থানীয় সরকার ও দলীয় রাজনীতিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি বান্দরবানের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার রাজনীতিতে আবারও নেতৃত্ব দেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন—যা তাকে জেলার বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।
১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও বিপুল ভোটে জয়লাভ করে জাতীয় সংসদে ফেরেন। তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে এবারের মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।


