logo

সিজারের পর যমজ সন্তানের একটি নিখোঁজ, ক্লিনিকের ওয়ার্ডবয় আটক

সিজারের পর যমজ সন্তানের একটি নিখোঁজ, ক্লিনিকের ওয়ার্ডবয় আটক
বলাকা ক্লিনিক। ইনসেটে আটক মো. জিহাদ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নওগাঁ শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একটি নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকটির এক ওয়ার্ডবয়কে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর ক্লিনিকের মালিক ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ ওয়ার্ডবয় মো. জিহাদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবা (৫ নভেম্বর) নওগাঁ শহরের বেসরকারি বলাকা ক্লিনিকে শান্তনা নামের এক প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থেকে তার পরিবারের কাছে একটি কন্যাশিশু হস্তান্তর করা হয়। তবে যমজ সন্তানের অপর শিশুটিকে না পেয়ে স্বজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় ক্লিনিকে কান্নাকাটি ও হইচই শুরু হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গর্ভাবস্থায় শান্তনার শারীরিক অবস্থা ও গর্ভস্থ সন্তানের সংখ্যা নিশ্চিত করতে তাকে শহরের রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়েছিল। আট মাসের মাথায় করা ওই পরীক্ষার প্রতিবেদনে তার গর্ভে দুটি সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে—থাকার কথা উল্লেখ ছিল।

পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর একটি কন্যাশিশু হস্তান্তর করা হলেও অপর শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের আশঙ্কা, অপারেশন থিয়েটারের ভেতর থেকেই শিশুটিকে চুরি বা পাচার করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান জানান, নবজাতক নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। এ ঘটনায় বলাকা ক্লিনিকের এক ওয়ার্ডবয় মো. জিহাদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা পালিয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি। ঘটনার তদন্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, নিখোঁজ নবজাতককে উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সব ধরনের চেষ্টা চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিউল ইসলাম

সম্পাদনা

রবিউল ইসলাম

সাব এডিটর | এশিয়া পোস্ট