logo

দুবাই হয়ে দেশে ফিরছিলেন রফিকুল, খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার

দুবাই হয়ে দেশে ফিরছিলেন রফিকুল, খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার

দেশে ফেরার জন্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের আল-কাসিম বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটে ওঠেন জামালপুরের প্রবাসী শ্রমিক রফিকুল ইসলাম। এয়ার এরাবিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটির ট্রানজিট রুট ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বিমানবন্দর।

দুপুর ২টার দিকে দুবাইয়ের শারজাহ বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করে। হঠাৎ ঘোষণা আসে—মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুবাই থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইটটি বাতিল করা হলো। ওই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন রফিকুল। সেদিন বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে রফিকুলের কথা হয়। এর পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

রফিকুল ইসলামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের মদন গোপাল এলাকায়। পাঁচ বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে আল-কাসিম শহরে মিনিস্টার বলোদিয়া কোম্পানির অধীনে একটি গ্যারেজে কাজ করতেন। তার দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

স্বজনরা জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে কোম্পানি থেকে ছুটি নেন রফিকুল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় সৌদি আরবের আল-কাসিম বিমানবন্দর থেকে এয়ার এরাবিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী আর্জিনা বেগম বলেন, সাহরির সময় আমার স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়। এর পর থেকে কোনো যোগাযোগ নেই। আট দিন ধরে আমার স্বামী নিখোঁজ। তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন—কিছুই জানি না।

রফিকুল ইসলামের বড় মেয়ে রাফিয়া ইসলাম বলেন, বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আমরা খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। বাবার সঙ্গে ঈদ করব—এই আশায় আছি। সবার কাছে অনুরোধ, আমার বাবার সন্ধান পেতে আমাদের সহায়তা করুন।

রফিকুল ইসলামের প্রবাসী ভাগ্নী-জামাই ফরহাদ হাসান বলেন, বাতিল হওয়া ফ্লাইটটি বুধবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশে অবতরণ করে। ফ্লাইটের অন্য যাত্রীরা দেশে ফিরলেও আমার খালু-শ্বশুর ফেরেননি। আট দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, আমাদের একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিখোঁজ হয়েছেন—বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।