Advertisement

কুড়িগ্রামের ৪ বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের ৪ বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ
ছবি : এশিয়া পোস্ট

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে দুটি বিদ্যালয় থেকে এবারই প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। শূন্য পাস করা এসব বিদ্যালয়ের কোনোটিতে পরীক্ষার্থী ছিল ১২ জন, আবার কোনোটিতে ছিল মাত্র চারজন।

Advertisement

শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে—মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ার কারণেই ফলাফলে এমন বিপর্যয় ঘটেছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। এ বছর কুড়িগ্রাম জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাসের হার ৫৬.৩৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন।

শূন্য পাসের তালিকায় থাকা বিদ্যালয়গুলো হলো—রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চবিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।

রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চবিদ্যালয় ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র (নিম্নমাধ্যমিক) পর্যায় পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালে নবম ও দশম শ্রেণির পাঠদান পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় এবং ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের চূড়ান্ত অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি।

এবার প্রথমবারের মতো এ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ মোট শিক্ষকের সংখ্যা ১২। আগামী এসএসসি পরীক্ষার জন্য নবম শ্রেণির প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক ও জমিদাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, ‘মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং ছেলেদের বিভিন্ন শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কম ছিল। পাশাপাশি উপজেলা শহর থেকে বিদ্যালয়টি প্রায় চার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ভালো শিক্ষার্থীরা শহরের নামিদামি বিদ্যালয়ে চলে যায়। ফলে এখানে তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীরাই থেকে গিয়েছিল।’

১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজারহাটের ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয় ২০২২ সালে নিম্নমাধ্যমিক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়। এরপর ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২৫ জন শিক্ষার্থী ও নয়জন শিক্ষক রয়েছেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর পাঁচজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। বাকি চারজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক থাকলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। আগামীতে ফলাফল ভালো করার চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে এবং ২০১২ সালে এটি মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে পরিচালিত এ বিদ্যালয়টি থেকে এবার চারজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও এবার কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।