logo

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জন নিহত

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জন নিহত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বের বিরোধের জেরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে দুপুরের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে বেলা দেড়টার দিকে ছত্রপাড়ার মৃত ইংরেজ কাজির ছেলে নাজিম কাজি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ বলছেন, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তবে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।

সংঘর্ষে কুবির কাজি গ্রুপের কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে ছত্রপাড়ার মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে কুবির কাজি ও নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজির অবস্থা গুরুতর ছিল। শিমুল কাজিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির জাহাঙ্গীর গ্রুপ, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খাঁ এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নিজেরাও হামলায় অংশ নেন।

এলাকাবাসী জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। ভোট নিয়ে পূর্ব বিরোধের ধারাবাহিকতায় ঈদের দিন এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তবে এ সংঘর্ষের বিষয়ে কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার ধর বলেন, সংঘর্ষের পর অন্তত পাঁচজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি ইসরাইল ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওসি বলেন, বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি পুলিশের টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ছত্রপাড়া এলাকায় হিন্দুদের অনেক সম্পত্তি ছিল। ওই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মারামারি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন ও আরও কয়েকজন আহত আছেন। ঘটনাস্থল থেকে দূরে মারামারির সংবাদ শুনে নাতির ওপর হামলার ঘটনায় তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কারা কারা জড়িত তদন্ত করছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করে হলে পরবর্তীতে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

অপরদিকে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে ছত্রপাড়া মসজিদের সামনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।