logo

সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় সিএমপি কমিশনারের কাছে ডাকসু ভিপির স্মারকলিপি 

সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় সিএমপি কমিশনারের কাছে ডাকসু ভিপির স্মারকলিপি 

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা শিবিরের একটি দল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করে।

স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সাদিক কায়েম সাংবাদিকদের বলেন, নতুন বাংলাদেশে আর কোনো ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি ছাত্ররা চায় না। সিটি কলেজে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা বহিরাগতদের নিয়ে অতর্কিত সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায়। আমরা এই ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি প্রশাসনের যাদের ভূমিকা অপেশাদার ছিল তাদের বিষয়ে তাদন্তের দাবি করেছি।

স্মারকলিপিতে জানানো হয়, গত ২১ এপ্রিল ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে স্থাপিত ফেস্টুন ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের জনশক্তির ওপর পরিকল্পিত ও সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

পরবর্তীতে এই হামলার প্রতিবাদে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করা হলে পুনরায় দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় দফার এই হামলায় প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হন এবং শিবিরের একজন কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এই বর্বরোচিত হামলা থেকে কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষকরাও রেহাই পাননি।

পুলিশ প্রশাসনের কাছে ছাত্রশিবির ৬টি দাবি পেশ করেছে তারা। সেগুলো হলো হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা তদন্ত করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও সহিংসতা রোধে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে মাইনুল ইসলাম মামুন স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো নৈতিকতা বিকাশের কেন্দ্র। সেখানে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জাতির ভবিষ্যতের ওপর আঘাতের শামিল। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।