চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই জাহাজের সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে আসা একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাগরে তীব্র স্রোতের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্যাংকারটি নোঙর করা বাল্ক ক্যারিয়ারকে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ট্যাংকারের কার্গো ট্যাংক অক্ষত থাকায় সাগরে কোনো প্রকার তেল নিঃসরণ ঘটেনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বহির্নোঙরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী তেলবাহী ট্যাংকার ‘এমটি সি স্পাইক’ নোঙর করে থাকা বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি সান শাইন’-এর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাগরে তীব্র স্রোত থাকায় ট্যাংকারটি নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি।
বন্দর সচিব জানান, দুর্ঘটনায় ‘এমটি সি স্পাইক’-এর ইঞ্জিন রুমের পোর্ট কোয়ার্টারে আনুমানিক এক বর্গমিটার ফাটল ধরে পানি প্রবেশ করে। এর ফলে জাহাজটিতে সাময়িক ‘ব্ল্যাকআউট’ বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। তবে ইমারজেন্সি ব্যাটারির সাহায্যে জাহাজের ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।
জাহাজটিকে স্থিতিশীল রাখতে দুটি নোঙরের ১০ শ্যাকেল করে ক্যাবল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী ভাটার সময়েও জাহাজটি নিরাপদে ভেসে থাকবে। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, তেল বহনকারী ট্যাংকগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং সাগরে কোনো তেল ছড়িয়ে পড়েনি।
ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
বন্দর সচিব আরও জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট ‘কান্ডারী-৮’ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জাহাজে থাকা জ্বালানি তেল দ্রুততম সময়ে খালাসের জন্য শিপিং এজেন্ট (প্রাইড শিপিং) এবং ফাটল মেরামত ও উদ্ধারের জন্য স্যালভেজ কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ভিএইচএফ মারফত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বন্দর চ্যানেলে অন্যান্য জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানানো হবে।



