logo

‘আমারে একলা রাইখা চইলা গেলা, আমি কি করমু’

‘আমারে একলা রাইখা চইলা গেলা, আমি কি করমু’

বউরে কত করে কইলাম তোমরা বাড়ি থাকো, আমি যাই; আমার ডিউটি আছে। বউ কইল না তুমি একলা একলা যাইবা। আমার ভালো লাগে না। এখন আমারে ছাইরা কেমনে একলা রাইখা চইলা গেলা। আমি কি করমু— পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস থেকে সাঁতরে তীরে আসা যাত্রী আবদুল আজিজুল স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন। 

বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে নদীতে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সাঁতরে বেঁচে ফিরে আসা ওই যাত্রী বলেন, তাকে (স্ত্রীকে) বলেছিলাম ২৯ মার্চ আমার ডিউটি আছে তোমরা বাড়ি থাকো, না বউ শুনলো না; বলল, আব্দুল্লাহর বাপ তোমারে না দেখলে আমার ভালো লাগে না। আমি বাড়ি থাকমু না। তোমারে না দেখলে আমার অস্থির লাগে। এখন আমার কি হবে; কেমনে বাঁচমু।

তিনি আরও বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে ওই বাসে ঢাকায় ফিরছিলেন। স্ত্রী ও ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে তিনি বসে ছিলেন। হঠাৎ বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় উল্টে নদীতে পড়ে যায়। আমি সাঁতরে কোনো রকম তীরে উঠে আসি।

এর আগে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ৩নং পল্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরীতে ওঠার সময় পড়ে যায়। বাসটিতে ৫০ জনের বেশি যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছেন ওই বাসের একাধিক যাত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩নং ঘাটের পন্টুনে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।