logo

১৩ শয্যার ওয়ার্ডে ১০০ শিশু, রোগীর চাপে মেঝেতে চিকিৎসা

১৩ শয্যার ওয়ার্ডে ১০০ শিশু, রোগীর চাপে মেঝেতে চিকিৎসা
শয্যাসংকটে অনেক শিশুকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। ছবি : এশিয়া পোস্ট

দিনে তীব্র গরম, রাতে ঠান্ডা—আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। হাম, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন অভিভাবকেরা। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। শয্যাসংকটে অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগে প্রায় ৩ হাজার শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি থাকছে। মাত্র ৫ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। অন্যদিকে, ১৩ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ জন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন আরও ৩০০ থেকে ৪০০ শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে। এসব শিশুর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ছাড়াও আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার রোগীর সংখ্যা বেশি। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, অসুস্থ শিশুদের নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অভিভাবকেরা। শয্যা না পেয়ে অনেক মা তাদের সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন।

দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা কুলসুম বেগম তিন বছর বয়সি মেয়েকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তিন দিন ধরে বাচ্চার নিউমোনিয়া আর জ্বর নিয়ে মেঝেতে পড়ে আছি। বেড না পাওয়ায় এই ঠান্ডা মেঝেতেই স্যালাইন দিতে হচ্ছে। রাতে আরও বেশি ঠান্ডা লাগে। বাচ্চার কষ্ট দেখে চোখে পানি ধরে রাখা যায় না।’

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান পাঁচ বছর বয়সি ছেলেকে নিয়ে কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেওয়ার পরও শিশুদের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছে না। শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই রোগের এমন প্রকোপ দেখা দেওয়ায় আসন্ন মৌসুম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকেরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন বলেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। ফলে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের যেন হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমের মধ্যে পড়তে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাসি ও খোলা খাবার এড়িয়ে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান করানো এবং শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি রোগের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।