logo

সাবেক এমপি শামসুল আবেদীন মারা গেছেন

সাবেক এমপি শামসুল আবেদীন মারা গেছেন

মরমি কবি দেওয়ান হাছন রাজার প্রপৌত্র ও সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামসুল আবেদীন মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি সুনামগঞ্জের নিজ বাসায় (হাছন রাজার বাড়ি) হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে দ্রুত তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, শামসুল আবেদীনের জানাজার নামাজ সোমবার দুপুর ২টায় লক্ষণশ্রী ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শামসুল আবেদীনের ছোট ভাই সদর উপজেলার পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন, আমার বড় ভাই শুধু আমাদের পরিবারেরই নন, অসংখ্য মানুষের ভালোবাসার একজন প্রিয় মানুষ ছিলেন। তার সততা, নেতৃত্ব, মানবিকতা এবং মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ কাজ আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ আমরা হারালাম একজন অভিভাবক, একজন পথপ্রদর্শক এবং একজন ছায়াদানকারী মানুষকে। এই শূন্যতা কখনও পূরণ হওয়ার নয়। সবার কাছে তার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি।

দেওয়ান শামসুল আবেদীনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছিল বৈচিত্র্যময়। তিনি সাবেক সিলেট-৩ বর্তমান সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসন থেকে ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন। ১৯৯১ সালে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০৮ সালে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে একই আসনে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু জয়ী হতে পারেননি।

সবশেষ ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে (বিএনএম) যোগ দিয়েছিলেন, তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর নানা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।