logo

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সংঘর্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কাঁপাশহাটিয়া ইউনিয়নের কুল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আবুল কাশেম (৫০) ওই গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বের বিরোধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বুধবার সন্ধ্যার পর এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে আবুল কাশেম গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।

ভাতুড়িয়া এলাকার যুবদল নেতা সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াত-সমর্থিত লোকজন আবুল কাশেমকে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি দাবি করেন, ঈদের আগ থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল এবং আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জামায়াত নেতারা। কাঁপাশহাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরাফুদ্দৌলা ঝন্টু বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিবারটি বিএনপি ও জামায়াতে বিভক্ত বলেও তিনি জানান।

গ্রামের বাসিন্দা গুলনাহার বেগম দাবি করেন, তার ছেলেকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। তার ভাষ্য, সংঘর্ষের সময় ইটের আঘাতে আবুল কাশেম নিহত হন।

হরিণাকুণ্ডু উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেন বলেন, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এতে নিহতের চাচার ছোড়া ইটের আঘাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জামায়াতের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের যৌথ হামলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।