Advertisement

সিসি ক্যামেরা লাগানোর কারণে সিলেটে পাসের হার কমেছে: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সিলেট
সিসি ক্যামেরা লাগানোর কারণে সিলেটে পাসের হার কমেছে: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন কর্মকর্তারা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে। বোর্ডের এই ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে যখন চারদিকে নানা আলোচনা চলছে, তখন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন দাবি করেছেন—পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কারণেই এবার পাসের হার কমেছে।

Advertisement

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের ফল প্রকাশ করা হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৮৯ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৮.৩৩ শতাংশ। এটি গত ৫ বছরের মধ্যে সিলেটে সর্বনিম্ন পাসের হার।

সংবাদ সম্মেলনে পাসের হারের এই বড় পতনের কারণ জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর। নির্দেশনানুযায়ী সব কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ফলে এবার শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি ‘ক্লিন ও ক্লিয়ার’ পরীক্ষা দিয়েছে। আমার মনে হয়, শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে যা দিয়েছে, সেই অনুযায়ীই ফলাফল এসেছে।

তাহলে বিগত বছরগুলোতে পরীক্ষা কি সঠিক নিয়মে হয়নি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি অতীত নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাই না। তবে আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা যতটুকু পড়াশোনা করেছে, সেই অনুপাতে ফলাফল এসেছে। আমাদের মূল্যায়নে কোনো অনিয়ম বা বৈষম্য হয়নি।

পাসের হার কমার অন্যান্য কারণ তুলে ধরে তিনি আরও জানান, এবার ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিশেষ করে মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা এ দুটি বিষয়ে দুর্বল হওয়ায় পাসের হার আরও নিচে নেমে গেছে।

শিক্ষা বোর্ডের গত পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিলেটে ধারাবাহিকভাবে পাসের হার কমছে। ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৭৮.৮২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৬.০৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৩.০৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৬৮.৫৭ শতাংশ এবং চলতি ২০২৬ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৮.৩৩ শতাংশে।

তবে সার্বিক পাসের হার কমলেও সিলেটে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। গত বছর সিলেট বোর্ডে ৩ হাজার ৬১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার তা ২২২টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জনে।

বিষয় :