logo

এডিবি প্রকল্পে অনিয়ম/টেন্ডার স্থগিত করে সিএ-কে শোকজ

টেন্ডার স্থগিত করে সিএ-কে শোকজ
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) তিনটি প্রকল্পের টেন্ডারে অসাধু উপায়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের সিএ (সাট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর) ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করে সিএ-কে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জিয়ানগর উপজেলার এডিবি প্রকল্পের কাজ বিধিবহির্ভূতভাবে নিজ এলাকা নাজিরপুরের ঠিকাদারদের পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন সিএ ইয়াসির আরাফাত। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনওর কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান।

ঠিকাদাররা জানান, এ প্রকল্পের কাজের টেন্ডারের জন্য পিরোজপুর জেলার সব লাইসেন্সধারীর অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত লটারিতে জিয়ানগর উপজেলার কোনো ঠিকাদারের লাইসেন্স ছিল না এবং উপজেলা পরিষদের সিএ (আরাফাত) তার নিজ এলাকার পছন্দের ঠিকাদারকে অসদুপায়ে এলজিইডির পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এলজিইডির পাসওয়ার্ড এই কর্মচারীর কাছে থাকার কোনো বৈধতা নেই। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফারুক হোসেন বলেন, জিয়ানগর উপজেলার লাইসেন্সধারীদের এসডিআরের মাধ্যমে লটারি করে কাজ বণ্টন করার কথা ছিল। কিন্তু সিএ আরাফাত সেখানে জালিয়াতি করে জিয়ানগর উপজেলার কোনো লাইসেন্স চূড়ান্ত লটারির জন্য না রেখে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

‎মেসার্স হাওলাদার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আসলাম হোসেন বলেন, সিএ আরাফাত এর আগেও নাজিরপুর উপজেলায় একাধিক দুর্নীতি করেছে‌ন। তিনি প্রকল্পে কাজ নিয়ে বেআইনিভাবে অন্যকে কাজ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

‎এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সিএ ইয়াসির আরাফাত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে অফিসের পাসওয়ার্ড নাই। আমি শুধু অফিসের দাপ্তরিক কাজে যে সহযোগিতা করা লাগে সেই কাজ করে দিয়েছি। টেন্ডার প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে হয়, আমার ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

এলজিইডির ‎জিয়ানগর উপজেলা প্রকৌশলী এমরান আহম্মেদ খান জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টেন্ডারের কলটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে অল্প সময়ের কাজে এরকম কম-বেশি ভুল হতে পারে।

জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ইজিপির (e-GP) যে টেন্ডারটি হয়েছিল সেখানে স্থানীয় কোনো ঠিকাদার নোটিফিকেশন পাননি। বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি। জিয়ানগর উপজেলার সব যোগ্য ঠিকাদারের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকার কথা।

তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয় এবং জিয়ানগর উপজেলা পরিষদের সিএ আরাফাত হোসেনের সংশ্লিষ্টতা ও অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা ওই টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করে দিই। পরে সরকারি বিধি-বিধান ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান ও সম্পন্ন করা হবে।