কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যা, একজনের মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লায় নয় বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মফিজুল ইসলাম মফু (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাজরিন সুলতানা ঝুমুর (৯) নামের ওই শিশুকে অপহরণ করা হয়। পরে সদর দক্ষিণ উপজেলার খেয়াশ ঠাকুরবাড়ি পুকুরের পশ্চিম পাড়ে একটি ধানখেতে নিয়ে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
শিশুটির মা রাজিয়া আক্তার জানান, বেলা ১১টার দিকে মেয়ে বাড়িতে না ফেরায় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শিক্ষিকা জানান, ঝুমুর ক্লাস শেষে আগেই বের হয়ে গেছে। পরে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যাওয়ার পথে তিনি ধানক্ষেতে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। মরদেহের পাশেই ছিল স্কুলের পোশাক, সাদা জুতা ও মাথার নিচে ছিল স্কুলব্যাগ। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মামলার সাক্ষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক প্রত্যক্ষদর্শী আসামি মফিজুলকে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে যেতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন তার বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ১ মে র্যাব অভিযান চালিয়ে চাঁদপুর থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে মোট ১৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। শুনানি ও দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এ মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল হক বলেন, দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে এ রায় প্রকাশ পাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। এটি সমাজে অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন ও অ্যাডভোকেট আবদুল মোতালেব। বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হক, অ্যাডভোকেট খালেদা শারমিন ও অ্যাডভোকেট শাহিন হোসেন মিঠু।
.png)





