logo

ছয় মাস পর ঘরে ফিরল হারিয়ে যাওয়া বাকপ্রতিবন্ধী মাইদুল

ছয় মাস পর ঘরে ফিরল হারিয়ে যাওয়া বাকপ্রতিবন্ধী মাইদুল

নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ছয় মাস পর অবশেষে বাবা-মায়ের কোলে ফিরেছে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোর মাইদুল ইসলাম। ছয় মাস লালমনিরহাট রেলস্টেশন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা গাজী রমজান আলীর আশ্রয়ে থাকা মাইদুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মাইদুল ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা সদরের মুদি দোকানি জালাল উদ্দিন ও মর্জিনা বেগম দম্পতির মেজ ছেলে। তাদের পরিবারে দুই ভাই ও দুই বোন রয়েছে।

জানা গেছে, ছয় মাস আগে পার্শ্ববর্তী এলাকায় নানার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি বাসে ওঠে মাইদুল। কিন্তু সে পথ হারিয়ে লালমনিরহাট রেলস্টেশনে চলে আসে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বিমর্ষ অবস্থায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে তাকে নিজ জিম্মায় নেন রেলস্টেশন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা গাজী রমজান আলী। 

বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় মাইদুল নিজের নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারছিল না। ইমাম বিষয়টি সদর থানায় জানান এবং তার পরিচয় শনাক্তের জন্য বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেন। পরিচয় না মেলায় ছয় মাস ধরে তাকে নিজ সন্তানের মতো লালনপালন করেন ইমাম গাজী রমজান আলী।

গত বুধবার (২২ এপ্রিল) স্থানীয় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাইদুলের ছবি দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। বৃহস্পতিবার সকালে সেই পোস্টটি মাইদুলের এলাকার এক শিক্ষকের নজরে আসে। এরপর ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মাইদুলের দাদা তোলা মিয়া, নানা মকবুল হোসেন, মামা রিপন ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত লালমনিরহাটে ছুটে আসেন।

বিকেলে লালমনিরহাট রেলস্টেশন এলাকায় যখন পরিবারের সদস্যরা মাইদুলকে দেখতে পান, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর স্বজনদের ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। স্টেশনের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা, যারা এই কয়েক মাস মাইদুলকে স্নেহ করতেন, তারাও বিদায়বেলায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

মাইদুলের মামা রিপন বলেন, নিখোঁজের পর থেকে আমরা অনেক জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও পাইনি। পরিবারের সবাই আশা ছেড়ে দিয়েছিল। আজ আমাদের হারানো ধন ফিরে পেয়েছি। যারা এই কয়েক মাস তাকে আগলে রেখেছেন, তাদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।

আশ্রয়দাতা মাওলানা গাজী রমজান আলী বলেন, মাইদুলকে প্ল্যাটফর্মে অসহায় অবস্থায় দেখে বাসায় নিয়ে আসি। আমার সন্তানদের মতোই তাকে যত্ন করেছি। পরিচয় শনাক্ত করতে আমি তাকে নিয়ে বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছি। তাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিতে পেরে মনে খুব শান্তি পাচ্ছি।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সঙ্গে টাঙ্গাইল যায় মাইদুল।