আমেরিকাও চাচ্ছে জামায়াতের নেতৃত্বে সরকার হোক: জামায়াত প্রার্থী সুলতান

বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমেদ বলেছেন, আমেরিকা চায় না পৃথিবীর কোনো দেশে ইসলামি দলের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হোক। এবার সেই আমেরিকাও বাংলাদেশে দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ কায়েম করতে জামায়াতে ইসলামীকে নির্ভর করে অগ্রসর হচ্ছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা বিকাশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সুলতান আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচন এ দেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হয়ে থাকবে, এ কথা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন।
শুধু দেশবাসী নয়, দুনিয়াবাসীও এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখতে চায়। শুধু গত ১৫ বা ১৮ বছর নয়, তার আগেও ২–৪টি নির্বাচন ছাড়া অধিকাংশ নির্বাচনই ছিল ভাঁওতাবাজির নির্বাচন।
ফলে দুনিয়ার কাছে বাংলাদেশের একটি বদনাম তৈরি হয়েছে গণতন্ত্রের নামে ভণ্ডামি, প্রতারণা, লাঠিয়াল বাহিনীর দৌরাত্ম্য, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, মারামারি ও হানাহানির মাধ্যমে এখানে নির্বাচন হয়েছে। কাজেই এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হলে পৃথিবী দেখবে বাংলাদেশের মানুষও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করি, তাহলে দেশের ক্ষতি হবে, জাতির ক্ষতি হবে, আপনার ক্ষতি, আমার ক্ষতি।
জামায়াতের এই প্রার্থী আরও বলেন, বহির্বিশ্বও চায় এবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এ দেশে সরকার কায়েম হোক। আপনারা যারা বিচক্ষণ, সাংবাদিক ও রাজনীতি- সচেতন, তারা এটার আলামত বুঝতে পারেন।
আলহামদুলিল্লাহ, পৃথিবীর কোনো দেশে আমেরিকা সাধারণত ইসলামী দলের নেতৃত্বে সরকার চায় না। কিন্তু এবার সেই আমেরিকাও এখানে দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র কায়েম করতে জামায়াতে ইসলামীর ওপর নির্ভর করে অগ্রসর হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ বলেন, শুধু আমেরিকা নয়, পশ্চিমা বিশ্বও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চায়। আর দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে এই মুহূর্তে জামায়াত ছাড়া তা সম্ভব নয় আমরা এখনো সেই দাবি করি। ইসলামিক দল হোক বা অন্য কোনো দল দুর্নীতিমুক্ত করার প্রশ্নে সবার সামনে এখন জামায়াতই আছে। শুধু আমেরিকা নয়, আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকও চায়। তাদের আনাগোনা জামায়াত অফিসে। আজকেও আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলেছি তাদেরও আগ্রহ আছে। দুর্নীতিমুক্ত করতে পারলে বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতি হবে। আর সেটা করতে হলে জামায়াতকে সামনে রাখতে হবে।