logo

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে কঠোর ব্যবস্থা: এমপি আবুল খায়ের

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে কঠোর ব্যবস্থা: এমপি আবুল খায়ের
লক্ষ্মীপুরে ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরুহিতা ইউনিয়নের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে দালাল বাজার ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরুহিতা ইউনিয়নের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকার পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া। এ সময় ড. মাহবুবুর রহমান খোকন, মহিউদ্দিন পাটোয়ারী, বিটুসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, ‘অপকর্ম করলে পার্টি কারও দায়িত্ব নেবে না। ব্যক্তিগত স্বার্থে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, দল ও সরকারকে জাতির কাছে, দেশের কাছে কিংবা এলাকার মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়। কেউ যদি মনে করেন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করবেন—এটা আমাদের স্পষ্ট বার্তা, তা মেনে নেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এখানে আসতে পেরেছি দলের অসংখ্য নেতাকর্মীর রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে। অনেকে এখনও পঙ্গুত্বের জীবনযাপন করছেন, কেউ গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন, কেউ চোখের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের ত্যাগের কারণেই আজ আমরা এই অবস্থানে এসেছি। তাই দলের সিদ্ধান্ত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’

মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই আমরা সিদ্ধান্ত দেব এবং তা ঘোষণা করা হবে। একজন চেয়ারম্যান, নয়জন পুরুষ সদস্য ও তিনজন নারী সদস্য—দলের পক্ষ থেকে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাদের বাইরে কেউ নির্বাচনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন না। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।’

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আবুল খায়ের ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘদিন ধরে এই সমাজ ও এলাকার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অনেকে নিজের অর্থ ব্যয় করেছেন, শ্রম দিয়েছেন, ঘাম ঝরিয়েছেন, কষ্ট করেছেন। আমি যতটুকু সম্ভব আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। যারা দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো এলাকায় দলের ভালো প্রার্থী না থাকলে আমরা এমন ব্যক্তিকেও বিবেচনা করতে পারি, যিনি আগে দলের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেননি, কিন্তু এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং দলের জন্য ভোট নিশ্চিত করতে পারেন। তবে সবকিছুই দলীয়ভাবে যাচাই-বাছাই ও বিচার-বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’