Advertisement

চাঁদাবাজির মামলায় সহযোগীসহ জামায়াত নেতা কারাগারে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সাতক্ষীরা
চাঁদাবাজির মামলায় সহযোগীসহ জামায়াত নেতা কারাগারে
আদালত প্রাঙ্গণে জামায়াত নেতা হাজী নজরুল। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

Advertisement

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন হাজী নজরুল ও বিশ্বজিৎ। তবে বাদীপক্ষ যুক্তি দেখায়, আসামিরা জামিনে মুক্ত থাকলে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নকাজ ব্যাহত হতে পারে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর-রাদ করপোরেশন’-এর আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন মামলাটি করেন। মামলায় শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে তার ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্প এলাকায় চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে বেড়িবাঁধের কাজ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ২৩ মে দুপুরে আসামি ও তার অনুসারীরা প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও কর্মচারী ফেরদৌসকে মারধর ও মালামাল ছিনতাই করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে হাজী নজরুল ইসলাম শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, মামলাটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট। ঘটনার দিন তিনি ইউপি কার্যালয়ে বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন।

এদিকে সোমবার আদালত চত্বরে আসামি নজরুল ইসলামের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেন তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম। এ নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

উপকূলীয় এলাকার পাউবো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্ষার আগে এই বাঁধের কাজ শেষ না হলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই প্রকল্পের নিরাপত্তায় আইনগত ব্যবস্থা জরুরি ছিল।