ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতাদের হামলা

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের ওপর এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে ইউনিয়ন পরিষদে এ হামলার ঘটনা ঘটে। চেয়ারম্যানের ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সম্প্রতি নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে সমবেত হন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ পরিষদে একটি তদন্ত টিম পাঠান।
তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ চাল আত্মসাতের কোনো প্রমাণ পাননি। পরে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার তার বাহিনী নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ও তার লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা হুমায়ুন কবির ও তার লোকজনকে মারতে মারতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে বাইরে নিয়ে যান। হামলার একপর্যায়ে চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির দৌড়ে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের মধ্যে আশ্রয় নেন। অন্যান্যরা দৌড়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বলেন, বিএনপি নেতারা মিথ্যা চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন। ট্যাগ অফিসারসহ তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তদন্ত করে কোনো প্রমাণ পাননি। তারপরেও হামলা করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের খবর পেয়ে তদন্ত করতে পরিষদে এসেছি। তবে হঠাৎ করে এ রকম হামলার ঘটনা ঘটবে বুঝতে পারিনি।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়া বলেন, নিয়ামতি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরের ওপর হামলার খবর শুনেছি। এ বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত কর্মকর্তা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ বলেন, নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের প্রাথমিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমাদের উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিস্তারিত জানিয়েছি। এমনকি এই হামলায় আমি নিজেও আহত হয়েছি।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সোহেল রানা বলেন, নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদে একটু ঝামেলা হয়েছিল। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাকেরগঞ্জের ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার একটি ভিডিও দেখেছি। এই ঘটনা একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। দলের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।