বাসচাপায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কের লেমুয়া হাফেজিয়া রাস্তার মাথায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সোনাগাজী উপজেলার বক্তার মুন্সি বাজারসংলগ্ন রাজাপুর গ্রামের মো. নুরুল হুদার ছেলে নুরুল আলম (৪৬) এবং তার ছেলে মোহাম্মদ নিরব (২৫)। নুরুল আলম ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের সিরাজ মিয়ার ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, সোমবার রাতে নুরুল আলম হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালকের দায়িত্ব পালন করেন। ডিউটি শেষে সকালে ভাগিনা আফজালের মোটরসাইকেলে ছেলে নিরবসহ লেমুয়ায় বোনের বাড়িতে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন তিনি। মোটরসাইকেলটি লেমুয়া হাফেজিয়া এলাকায় পৌঁছে ইউটার্ন নেওয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ‘দাউদকান্দি এক্সপ্রেস’ ব্যান্ডের একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই বাসের নিচে পিষ্ট হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নুরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নিরব ও আফজালের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথেই ছেলে নীরবের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম এশিয়া পোস্টকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে মৃত ব্যক্তির লাশ ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। আর আমাদের কাছে দুর্ঘটনায় আহত দুজন এলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় তবে তাদের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। পথে একজন মারা গেছে।
ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে ডিউটি শেষে বোনের বাড়ি যাওয়ার পথেই সহকর্মী নুরুল আলম ও তার ছেলে দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘাতক বাস ও দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।