যাচ্ছিলেন চিকিৎসা করাতে, মারা গেলেন নদীতে ডুবে

কুষ্টিয়া থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছিলেন মর্জিনা খাতুন হাসি। সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে রওনা দেন তিনি। কিন্তু তার ঢাকায় পৌঁছানো হলো না। বুধবার (২৫ মার্চ) রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে মারা যান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার জুগিয়া রাস্তাপাড়া গোরস্তানে মর্জিনাকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুতের অধীনে পাংশা জোনাল অফিসে কর্মরত ছিলেন মর্জিনা খাতুন হাসি। তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে আমেনা খাতুন গৃহিণী। ছোট মেয়ে ফাতেমা ফারহানা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক।
মর্জিনার স্বামী আবু বক্কর জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ডাক্তার দেখাতে ঢাকা যাচ্ছিলেন। মেয়েরা স্বামীসহ ঢাকায় থাকে। তাদের বাসায় যাওয়ার কথা ছিল মর্জিনার।
মর্জিনার বড় মেয়ের স্বামী মনোয়ার হোসেন জানান, বিকালের দিকে গোয়ালন্দ ঘাটে পৌঁছলে বড় মেয়ে আমেনা খাতুনের সঙ্গে কথা হয় মার্জিনার। মেয়েকে জানিয়েছিলেন, ঘাটে বাস থেমে আছে। একটু পর বাস ফেরিতে উঠবে। এর ঠিক ২০ মিনিট পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, বাস পানিতে ডুবে গেছে।
তিনি আরও জানান, রাতেই মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয় পরিবারের কাছে। এরপর ভোরে মরদেহ কুষ্টিয়ায় আনা হয়। জুগিয়া রাস্তাপাড়া গোরস্তানে জানাজা হয়।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।