ভূমিহীনদের বাড়িঘর দখলের অভিযোগ, যুবদল নেতার গ্রেপ্তার দাবি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর মাকসুমুল গ্রামে ভূমিহীন পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, জমি দখল, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। অনতিবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে চর মাকসুমুল গ্রামে শত শত এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন মেম্বার ও আলা উদ্দিনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
জামাল উদ্দিন মেম্বার অভিযোগ করে জানান, মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম, তার ভাই জসিম উদ্দিন (কালা) এবং তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমিহীনদের বাড়িঘর ও জমি দখল, হামলা, মারধর এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরও বেড়েছে।
অপর ভুক্তভোগী আলা উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ২৩ জুলাই দিবাগত রাতে তাদের ইজারাকৃত একটি মৎস্য প্রকল্পে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা চারটি ঘর ভাঙচুর করে এবং একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ এবং প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি ১০ কেভিএ বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দিদারুল আলম ও তার ভাই জসিম উদ্দিন—কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল হাসান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
.png)






