logo

চলনবিলে জমে উঠেছে খিরার হাট

চলনবিলে জমে উঠেছে খিরার হাট

জমে উঠেছে সিরাজগঞ্জের চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী খিরার হাট। চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র দিঘরীয়া, রানীরহাটসহ বিভিন্ন বাজারে গড়ে উঠেছে মৌসুমি খিরার হাট। খিরার আড়তগুলো পাইকার ও বিক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেনাবেচা হচ্ছে শত শত টন খিরা। এদিকে খিরার দাম ভালো পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। সারাদেশেই চলনবিলের খিরার চাহিদা রয়েছে। তবে এবার ঢাকায় এই খিরার চাহিদা বেশি।

চলতি মৌসুমে চলনবিলের তাড়াশ উপজেলায় ৪২৭ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৭৫ হেক্টর বেশি। সুস্বাদু খিরাকে কেন্দ্র করে চলনবিল এলাকার তাড়াশের দিঘুরিয়া, রানীরহাট ও কোহিতসহ ১৫টি গ্রামে খিরা বিক্রির অস্থায়ী আড়ত ও মৌসুমি হাট গড়ে উঠেছে। এসব হাটে প্রতিদিন ঢাকা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে খিরা কিনে নিয়ে যান। প্রতিমণ খিরা ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠজুড়ে খিরার আবাদ হয়েছে। অনেক কৃষক লাভের আশায় লিজ নিয়ে জমিতে খিরা চাষ করছেন। দিঘরীয়া এলাকায় বসা বড় আড়তে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা খিরা বিক্রির জন্য ভিড় করছেন। আড়ত থেকে বিভিন্ন জেলার পাইকাররা ট্রাকে করে খিরা কিনতে আসেন। এলাকার খিরা সাধারণত রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। তবে এবার এর চাহিদা ঢাকায় বেশি রয়েছে। প্রতিদিন শত শত টন খিরা কেনাবেচা হচ্ছে। শুধু ঢাকায় প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ টন খিরা যাচ্ছে।

উপজেলার বারুহাস গ্রামের কৃষক আনসার উদ্দিন বলেন, এ বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে খিরার চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজার দর ঠিক থাকলে খরচ বাদে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি। 

দিঘরীয়া গ্রামের কৃষক মজনু জানান, ধান চাষের পাশাপাশি তিনি আড়াই বিঘা জমিতে খিরা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ১০০ থেকে ১২০ মণ ফলন হবে। বর্তমানে প্রতি বস্তা খিরা ৩ হাজার ১৫০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার দর এ রকম থাকলে আড়াই বিঘা জমিতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হবে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হযরত আলী বলেন, উপজেলার ফসলি জমিতে খিরা চাষ খুব ভালো হয়। কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের খিরা চাষে উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। খিরা চাষে কৃষকরা অন্যান্য কৃষি দ্রব্যের তুলনায় ভালো লাভবান হতে পারেন।