logo

ময়মনসিংহ মেডিকেল ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

ময়মনসিংহ মেডিকেল ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৭ দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবারের (১৮ এপ্রিল) একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সীদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী সাত দিনের জন্য সব প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে কলেজের বাঘমারা ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর। তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী।

পুলিশ, হাসপাতাল ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী মুয়াজ মীর হামিদুরের কক্ষে যান। সেখানে বাইকে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে মীর হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হামিদুরের গ্রুপের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন।

এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তার গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সংঘর্ষে আহত মুয়াজ ও মীর হামিদুরেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতভর ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়ার পর সকালে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামিদুর হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। এই দুইজনের মাথায় আঘাত করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান বলেন, আগামী সাত দিনের জন্য কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।