logo

বিদ্যালয় আছে—নেই পাঠদান, থমকে শিশুদের স্বপ্ন

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, লক্ষ্মীপুর
বিদ্যালয় আছে—নেই পাঠদান, থমকে শিশুদের স্বপ্ন
জাপানের দাতা সংস্থার সহায়তায় বুড়িরঘাট বেড়িবাঁধ এলাকার জরাজীর্ণ বিদ্যালয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ইটের দেয়াল ও টিনের চালের বিদ্যালয় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর অধিকাংশ অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। সামনের মাঠে এখন ধান, সয়াবিনসহ বিভিন্ন ফসল রাখা হয়। তবু প্রতিদিন কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে অপেক্ষা করে। তাদের স্বপ্ন—কবে আবার খুলবে তাদের প্রিয় বিদ্যালয়টি?

লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার মেঘনা নদীঘেরা চররমনী মোহন ইউনিয়নের বুড়িরঘাট এলাকায় বিদ্যালয়টি অবস্থিত। কিন্তু অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় বিদ্যালয়টিও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত কোমলমতি শিশু।

বুড়িরঘাট এলাকার কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় অনেক শিশু ঝরে পড়ছে শিক্ষার সুযোগ থেকে। ফলে তারা নদীতে মাছ ধরা, খেলাধুলা কিংবা বিভিন্ন কাজে সময় কাটায়। এতে শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোপিরেট জাপানের একটি দাতা সংস্থার সহায়তায় বুড়িরঘাট বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি বিদ্যালয় চালু করে। নদীভাঙন ও দারিদ্র্যপীড়িত এই এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে গড়ে ওঠা বিদ্যালয়টিতে একসময় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পরিবার বিদ্যালয়ের জন্য জমিও দান করে।

প্রথম দিকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চললেও পরে দাতা সংস্থার অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৬ সালে আবারও স্কুলটির কার্যক্রম চালু করা হয়। টানা তিন বছর পাঠদান চললেও ২০১৯ সালের দিকে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যালয়টি।

laxmipur
laxmipur

স্থানীয় অভিভাবক মো. শাহ আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের এলাকা থেকে স্কুল অনেক দূরে। ছোট বাচ্চাদের এত দূরে পাঠানো সম্ভব হয় না। তাই তারা পড়াশোনা বাদ দিয়ে নদীতে মাছ ধরে বা খেলাধুলা করে সময় কাটায়।’

আরেক অভিভাবক নাছিমা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। শহরে নিয়ে সন্তানদের পড়ানোর সামর্থ্য নেই। সরকার যদি আবার স্কুলটা চালু করত, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠত।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, ‘বিদ্যালয়টি চালু থাকাকালে এই এলাকার অনেক ছেলেমেয়ে শিক্ষিত হয়েছে। এখন স্কুল বন্ধ থাকায় নতুন প্রজন্ম অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে।’

এনজিও সংস্থা সোপিরেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের আওতায় জাপানি দাতা সংস্থার সহায়তায় আমরা কয়েকটি বিদ্যালয় পরিচালনা করতাম। অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়টির কার্যক্রম আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।’

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিদ্যালয়টির বিষয়ে আমি আগে অবগত ছিলাম না। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। খোঁজখবর নিয়ে বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।’

নদীভাঙন, দারিদ্র্য আর অবহেলার সঙ্গে লড়াই করা চরাঞ্চলের মানুষ এখন অন্তত তাদের সন্তানদের জন্য একটি বিদ্যালয় চান। তাদের দাবি, দ্রুত স্কুলটি সংস্কার ও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলে শিক্ষার আলো ফিরে পাবে মেঘনাপাড়ের শত শত পরিবার।