নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর হাত-পা বাঁধা ড্রেজার ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নিখোঁজের প্রায় এক সপ্তাহ পর তিতাস নদী থেকে মুকবুল হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মিরপুর এলাকায় নদীর পানির তলদেশ থেকে নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দলের সদস্যরা।
মুকবুল হোসেন উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের পাঠামারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিতাস নদীতে বালু উত্তোলনের একটি ড্রেজার ব্যবসার অংশীদার ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার পর ড্রেজার থেকে নিখোঁজ হন মুকবুল। এরপর স্বজন ও স্থানীয়রা নদীসহ আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
এদিকে একই এলাকায় রুবেল মিয়া নামে আরও একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে শনিবার রাত ১০টার দিকে রুবেল মিয়াকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মুকবুলের সন্ধান না পাওয়ায় খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে। পরে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল রোববার সকাল ৮টা থেকে মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তল্লাশির পর দুপুর দেড়টার দিকে পানির তলদেশে নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মুকবুলের মরদেহের সন্ধান পান ডুবুরিরা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে ডুবুরি আশিক মাহমুদ ও দেলোয়ার হোসাইন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তিনি বলেন, মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীতে একজনের মরদেহ থাকতে পারে মডেল থানা কর্তৃক এমন তথ্য পেয়ে আজ সকাল ৮টা থেকে তল্লাশি শুরু করি। দুপুর দেড়টার দিকে পানির তলদেশ থেকে নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন এশিয়া পোস্টকে জানান, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
