ঘরে আটকে বৃদ্ধকে মারধর, জোর করে স্বীকারোক্তির অভিযোগ

মাদারীপুরের শিবচরে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অপবাদ তুলে লিয়াকত শিকদার (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে ঘরে আটকে রেখে মারধর এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর পরিবারের।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান আহত লিয়াকত শিকদারের মেয়ে লিমা আক্তার।
গুরুতর আহত লিয়াকত শিকদারকে উদ্ধার করে প্রথমে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। লিয়াকত শিকদার শিবচর উপজেলার বহেরাতলা ইউনিয়নের লপ্ত সরকারচর এলাকার মোনতাজ উদ্দিন শিকদারের ছেলে। এ ঘটনায় তার মেয়ে লিমা আক্তার ৯ জনের নাম উল্লেখ করে শিবচর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে তাদের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে গত ১ আগস্ট বিকেলে শিবচর উপজেলার কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল খার স্ত্রী অসুস্থতার কথা বলে কবিরাজি চিকিৎসার জন্য লিয়াকত শিকদারকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেন। লিয়াকত শিকদার বাড়িতে যাওয়ার পর তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জাহিদুল খার স্ত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির মনগড়া অভিযোগ আনা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন।
লিয়াকতের পরিবারের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে অপবাদ স্বীকার করতে বাধ্য করা হয় এবং সেই বক্তব্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মারধরে গুরুতর আহত লিয়াকত শিকদারকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগীর মেয়ে লিমা আক্তার বলেন, পূর্বশত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। তাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার বাবা এখন মৃত্যুশয্যায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুল খলিফা জানান, লিয়াকত শিকদার এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা দরকার। তবে তাকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম খান বলেন, তাদের সাথে আমাদের কোনো মারামারি হয়নি। যে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের সাথে আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ রয়েছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, বৃদ্ধের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
.png)

