logo
Advertisement

থানচিতে স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষককে তুলে নিয়ে গেল অস্ত্রধারীরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
থানচি, বান্দরবান
থানচিতে স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষককে তুলে নিয়ে গেল অস্ত্রধারীরা
অপহৃত স্কুলশিক্ষক চাই অং প্রু মার্মা। ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের নাইদারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাই অং প্রু মার্মাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় থেকে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে সাঙ্গু নদীপথ দিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর থেকে অপহৃত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধারে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ সদস্যরা তৎপরতা শুরু করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনী সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উ নু থোয়াই মারমা জানান, বুধবার দুপুরে কয়েকজন অস্ত্রধারী একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রথমে বিদ্যালয়ে আসে। তারা প্রধান শিক্ষককে খুঁজতে থাকে। পরে বিদ্যালয়ের পাশের একটি চায়ের দোকানে গিয়ে প্রধান শিক্ষক চাইঅং প্রু মার্মার পরিচয় নিশ্চিত করে তারা।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর অস্ত্রের মুখে প্রধান শিক্ষককে নৌকায় তুলে নেয় সশস্ত্র ব্যক্তিরা। তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় সহকারী শিক্ষক উ নু থোয়াই মারমার কাছ থেকেও একটি ফোন নিয়ে যায় তারা।

প্রধান শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের প্রায় এক ঘণ্টা পর চাইঅং প্রু মার্মা তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বেঁচে থাকলে তিনি ফিরে আসবেন বলে স্ত্রীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।

প্রধান শিক্ষকের এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে চাইঅং প্রু মার্মার জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে তাকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা পরিদর্শন করেন। সাঙ্গু নদীপথসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার জানান, একটি সশস্ত্র দল নাইদারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হানা দিয়ে প্রধান শিক্ষক চাইঅং প্রু মার্মাকে অস্ত্রের মুখে সাঙ্গু নদীপথে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাকে উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে অপহরণের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।