দাম্পত্যকলহের মামলায় কারাগারে স্বামী-স্ত্রী

দাম্পত্যকলহ নিয়ে একে-অপরের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক মামলায় আপস-মীমাংসা না হওয়ায় স্বামী ও স্ত্রী দুজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে ফেনীর সোনাগাজী আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজ উদ্দিন যৌতুক ও চুরির অভিযোগে করা পরস্পরবিরোধী মামলার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মো. সুমন ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একই উপজেলার ভোয়াগ গ্রামের নাসিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের মাত্র দুই মাস পরেই তাদের দাম্পত্যজীবনে কলহ শুরু হয়।
স্বামীর পক্ষের অভিযোগ, বিয়ের দুই মাস পর নাসিমা আক্তার পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির সহযোগিতায় চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এ ঘটনায় সুমনের বাবা বাচ্চু মিয়া বাদী হয়ে নাসিমা আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।
দাম্পত্যকলহের জেরে নাসিমা আক্তার বাদী হয়ে স্বামী মো. সুমন এবং তার বাবা-মায়ের (শ্বশুর-শাশুড়ি) বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দুইটি মামলা একই আদালতে বিচারাধীন থাকায় বিচারক উভয়পক্ষকে পারিবারিক বিরোধটি আপসের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য একাধিকবার সুযোগ ও সময় দেন। পূর্বে দুই মামলায় স্বামী-স্ত্রী জামিনে ছিলেন।
কোনো সমাধান বা আপস না হওয়ায় স্বামী-স্ত্রী আদালতে উপস্থিত হন। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় স্বামী মো. সুমনকে এবং স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা চুরির মামলায় স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্বামীর পক্ষের আইনজীবী রবিউল হক ফরহাদ বলেন, আদালত মামলা মীমাংসার জন্য তাদের যথেষ্ট সময় দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা না হওয়ায় আদালত তাদের দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ফেনী আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তাদের পরস্পরবিরোধী মামলায় আদালতের আদেশে স্বামী ও স্ত্রী দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



