দুই ঘণ্টা পর জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক

স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের দুই ঘণ্টা পর রাস্তা ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) রাত ৮টা থেকে জামালপুর সদরের শরিফপুর বাজার সংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এরপর রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা। পরে মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়রা জানান, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে আজ এলাকার কয়েকশ মানুষ শরিফপুর বাজারে (জামালপুর-ময়মনসিংহ) মহাসড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহন চলাচল আটকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
খবর পেয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত লোডশেডিং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে রাত প্রায় ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজুয়ান আনসারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় দিন-রাতে মিলিয়ে মাত্র দুই-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। বারবার বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। বাধ্য হয়েই আমরা সড়কে নেমেছি।’
একই এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া বলেন, ‘রাতের পর রাত বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ঘুমানো যায় না, ছোট ছোট বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা কোনো ঝামেলা চাই না, শুধু নিয়মিত বিদ্যুৎ চাই।’
জামালপুর জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হালিম বলেন, ‘তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয়রা প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় আমরা ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীদের আশ্বস্ত করলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।’
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয় নেতা ও অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অবরোধকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে রাত ১০টার পর যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।’



