দগ্ধ ৯ জনকে ঢাকা নেওয়ার পথে এক নারীর মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি বাসায় গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে তিন শিশুসহ দগ্ধ ৯ জনকে ঢাকায় নেওয়ার পথে এক নারী মারা গেছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকায় নেওয়ার পথে দগ্ধ রানী আক্তারের মৃত্যু হয়।
এর আগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিন শিশুসহ দগ্ধ ৯ জনকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চট্টগ্রাম মেডিকেলের চিকিৎসকরা।
মকবুল নামে রানী আক্তারের এক স্বজন বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে ৯ জনকে ঢাকা নেওয়া হচ্ছিল। পথে রানী আক্তারের মৃত্যু হয়। আমাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। রানী আক্তারকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। বাকিদের ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। আমরা সকালে রওনা দেব চট্টগ্রাম থেকে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, হালিশহরে বাসায় বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনের অবস্থা খুবই শঙ্কাজনক। সবার শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সবাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, আহতদের মধ্যে পাখি ও শাখাওয়াতের শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া একজনের ৮০, একজনের ৪৫ এবং বাকিদের শরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এর আগে সোমবার ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বিকট শব্দে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে দগ্ধ বাকি আটজন হলেন- শাখাওয়াত হোসেন, শিপন, সুমন, শাওন, পাখি আক্তার, আনাস (৭), উম্মে আইমন (৯) ও আয়েশা আক্তার (৪)।
স্থানীয়রা জানান, ওই বাসায় কুমিল্লার শাখাওয়াত ও সুমন- দুই ভাই পরিবার নিয়ে থাকেন। তারা দুজন এসি মসজিদ এলাকায় একটি গাড়ির ওয়ার্কশপ চালান। তাদের আরেক ভাই শিপন প্রবাসী। চিকিৎসার জন্য তিনি পরিবার নিয়ে দুই ভাইয়ের শহরের বাসায় এসেছিলেন। ঘটনার সময় তিন ভাইয়ের পরিবারই ওই বাসায় ছিল।
ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহরের হালিমা মঞ্জিল নামে ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার শাখাওয়াত ও সুমনের বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর ঘরটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দগ্ধদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা।
বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন বলেন, ভোরে ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ হয়। এতে ঘরে থাকা নারী-শিশুসহ বেশ কয়েকজন দগ্ধ হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জোর দিয়ে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণের কথা বললেও পুলিশ বলছে কী থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে সেটি এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তবে ওই বাসার রান্নাঘরের চুলা অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। যদিও বিস্ফোরণে বাসার পাশের ইউনিট এবং উপরের দুই তলা ও নিচের এক তলার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।