logo
ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

‘প্যান্ট-শার্ট লাগবে না, লাগবে শুধু বাবা তোমাকে’

‘প্যান্ট-শার্ট লাগবে না, লাগবে শুধু বাবা তোমাকে’
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ঈদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরছিলেন বাবা-ছেলে। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল বিভীষিকাময় স্মৃতি। ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ছেলে তুহিন। তার আবেগঘন আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ।

সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের মধ্যে তুহিনের বাবা নজরুল ইসলামও একজন। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। ঈদে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে কম খরচে রডবোঝাই ট্রাকে উঠেছিলেন তারা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তুহিন বলেন, ‘বাবা তুমি না আমাকে বাড়িতে নিয়ে প্যান্ট-শার্ট কিনে দিবে। এখন আমার প্যান্ট-শার্ট লাগবে না, লাগবে শুধু বাবা তোমাকে। পাশে বসে না তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছিলাম। আগে কেন ঘুম থেকে জাগলাম না?’

তুহিন জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি বাবার পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখেন, রডবোঝাই ট্রাকটি খাদে উল্টে গেছে এবং তার বাবার শরীর ট্রাকের ভেতরে আটকে আছে। তিনি বলেন, ‘আমি কোনোভাবে বেঁচে গেছি। কিন্তু আমার আব্বুর শরীর ট্রাকের মধ্যেই আটকা ছিল। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় নেয়। যদি দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হতো, তাহলে হয়তো আরও অনেক যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা যেত।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রাকটিতে কয়েকজন যাত্রীও অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাকটি খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই অনেকের মৃত্যু হয়।

এদিকে উদ্ধারকাজের কারণে ভোর ৪টা ২৫ মিনিট থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল আগের তুলনায় স্বাভাবিক রয়েছে।