logo
Advertisement

১৫১ শয্যার হাসপাতাল পাচ্ছেন ফটিকছড়ি উত্তরের বাসিন্দারা

১৫১ শয্যার হাসপাতাল পাচ্ছেন ফটিকছড়ি উত্তরের বাসিন্দারা
ছবি : এশিয়া পোস্ট গ্রাফিক্স

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় ১৫১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রের ১৬ নম্বর ক্রমিকে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন উপজেলার জন্য ১৫১ শয্যার সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হলো।

সরেজমিনে উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জটিল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, প্রসূতি সেবা কিংবা শিশুদের চিকিৎসার জন্য তাদের বাধ্য হয়ে দূর-দূরান্তের হাসপাতালে যেতে হয়। বর্তমানে রোগীদের ফটিকছড়ি, রামগড় ও মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা চট্টগ্রাম নগরীর হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। ফলে নতুন উপজেলা গঠিত হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

১৫১ শয্যার হাসপাতালটি চালু হলে উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দাদের জন্য রোগী ভর্তি ও জরুরি চিকিৎসাসহ নানাবিধ সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

তবে উপজেলা সদর দপ্তর কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকায় আদালত উপজেলা সদরের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কোন এলাকায় নির্মিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এ ছাড়া সরকারি পরিপত্রে হাসপাতালের নির্দিষ্ট স্থান, জমি বরাদ্দ বা অধিগ্রহণ, নির্মাণকাজের সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

ভূজপুরের বাসিন্দা মাওলানা নিজাম উদ্দিন বলেন, উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের জন্য ১৫১ শয্যার হাসপাতালটি দীর্ঘদিনের দাবি। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হাসপাতালটির কাজ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসা পাওয়া সহজ হবে এবং দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

দাঁতমারার বাসিন্দা আবুল খায়ের বলেন, নতুন উপজেলা হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য যেন দূরে ছুটতে না হয়, সেই ব্যবস্থা দ্রুত করা দরকার। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নে দ্রুত স্থান নির্ধারণ, জমি বরাদ্দ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সসহ জনবল নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনুমোদনের একটি নথি পেয়েছি। এটি বাস্তবায়িত হলে ফটিকছড়ি উত্তরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি অনেক সহজ হবে। জনগণের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে উপযুক্ত স্থানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হলে এর সুফল সব মানুষ পাবে।