Advertisement

‘গুপ্তধনের’ খোঁজে জমিদার বাড়ির পুকুর খনন

এশিয়া পোস্ট নিউজ
‘গুপ্তধনের’ খোঁজে জমিদার বাড়ির পুকুর খনন

গুপ্তধনের আশায় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো বাইশরশি জমিদার বাড়ির একটি পুকুরের ‘বউঘাট’ (জমিদার বাড়ির নারীদের স্নানের স্থান) খুঁড়ে তছনছ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র প্রকাশ্যেই সেখানে খনন চালিয়ে মূল্যবান প্রত্নসম্পদ তুলে নিচ্ছে।

Advertisement

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বউ ঘাটের নিচের অংশে খনন করে মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে। খননের স্থানে পাথরের মূর্তির ভাঙা অংশ পড়ে আছে। এ ছাড়া জমিদারদের ব্যবহৃত কালো পাথরের বাটি, ধুপকাটির পাত্র, পূজার ঘোটি, দোয়াত কালির পাত্রসহ বিভিন্ন তৈজসপত্রের ভাঙা অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।  

দীর্ঘ বছর পর জমিদার বাড়ির পুকুরের ওই বউঘাটের পানি শুকিয়ে গেলে সুযোগ নেয় চক্রটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনের বেলাতেই কয়েকজন ব্যক্তি মাটি তুলে পাশের পুকুরে নিয়ে ধুয়ে সেখান থেকে মূল্যবানসামগ্রী সংগ্রহ করছে। তাদের হাতে মূল্যবান স্বর্ণালংকার, শেতপাথরের দাবার গুটি ও মারবেল, তামা ও রুপার প্রাচীন মুদ্রাসহ বিভিন্ন পুরোনো জিনিসপত্র উদ্ধার হতে দেখা গেছে। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা থেকে আসা বলে দাবি করে।

স্থানীয়রা জানান, একসময় এই জমিদার পরিবার ফরিদপুর, বরিশালসহ ২২টি পরগনার অধিপতি ছিল। জমিদারি প্রথা থাকা অবধি তারা এই অঞ্চলে জমিদার পরিচালনা করেছেন এবং দেশ ভাগের পর এ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। তারপর থেকে এ বাড়িটি সরকারি তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ পরিত্যক্ত বাড়ির যে স্থানে খনন করা হচ্ছে, সেখানে জমিদার বাড়ির নারীরা স্নান করতেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হতো। ধারণা করা হয়, স্নানের সময় হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান রত্নের আশায়ই চক্রটি সেখানে খনন করছে।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, খননের বিষয়টি আমি সদ্য অবগত হয়েছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৭শ শতকের গোড়ার দিকে লবণ ব্যবসার মাধ্যমে সাহা পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয়। পরবর্তী সময়ে তারা একে একে ২২টি পরগনা ক্রয় করে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করে। ১৮০০ শতক থেকে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ পর্যন্ত ভারতবর্ষজুড়ে এই পরিবারের খ্যাতি ও প্রতিপত্তি ছিল সুপরিচিত।

একসময় প্রায় ৫০ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই জমিদার বাড়িতে ছিল বাগানবাড়ি, শানবাঁধানো পুকুর, পূজামণ্ডপ এবং দ্বিতলবিশিষ্ট ছোট-বড় ১৪টি দালানকোঠা। বর্তমানে প্রায় ৩০ একর জমি টিকে থাকলেও বাকি অংশ দখল হয়ে গেছে। এখনও কারুকার্যখচিত দরজা-জানালা ও লোহার অলংকরণে অতীতের আভিজাত্যের ছাপ মিললেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।