সিলেটে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ-হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে করা মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন, তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে এই তথ্য জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজরুল আলম।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। লাশ গুমে জাকিরকে সহযোগিতার জন্য তার দু্ই ভাই জয়নাল ও কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা। তাদের মধ্যে জাকিরকে ঘটনার পর গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজের দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন জাকির।
জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। ওই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানায়, শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে সেটি সরিয়ে বাড়ির বাইরে রাখা হয়। দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিলেটজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি ফাহিমাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন এবং দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।



