চট্টগ্রামে র্যাব কর্মকর্তা হত্যা : আরও ২ আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের ডিএডি আব্দুল মোতালেব হত্যাসহ তিন র্যাব সদস্য আহতের মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
রবি (২৫ জানুয়ারি) ও সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নগরের খুলশী এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লা প্রকাশ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মিজান (৫৩) ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার কালাভানিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মামুন (৩৮)।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফফর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি বিকালে র্যাব-৭ এর একটি দল চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল-সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আনুমানিক ৪০০-৫০০ দুষ্কৃতিকারী র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দুষ্কৃতকারীদের অতর্কিত হামলায় র্যাবের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় আহত র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়। চট্টগ্রাম সিএমএইচের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডিএডি মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন এবং অপর ৩ র্যাব সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় র্যাব-৭, চট্টগ্রাম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ ১৫০/২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে যান র্যাব-৭ এর সদস্যরা। এ সময় তাদের গাড়ির গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। ভাঙচুর করা হয় গাড়ি। র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এতে র্যাবের চার সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল নিলে মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। অন্য তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মো. মোতালেব হোসেনের মরদেহ কুমিল্লায় আনার পর জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।