logo

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে ভাঙচুর মামালার আসামি/শাহরিয়ারের দখলে ওয়াকফ সম্পত্তি, অভিযোগ এলাকাবাসীর

শাহরিয়ারের দখলে ওয়াকফ সম্পত্তি, অভিযোগ এলাকাবাসীর
শাহরিয়ার মাহমুদ ও তার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি কারাবন্দী শাহরিয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে এলাকায় ওয়াকফ সম্পত্তি ও মানুষের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে নোয়াখালী সদর উপজেলার সালেহপুর মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

এ সময় দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের, শাহাদাত হোসেন শিপন, মো. মানিক, মো. রুহুল আমিন, রায়হান খান নান্টুসহ বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ঢাকা ও সারা দেশে নানা অপকর্মে বিতর্কিত মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদ নোয়াখালী সদরের দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামে অবস্থিত তিনটি প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ওয়াকফ সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, দক্ষিণ সালেহপুর জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৫০৩), দারুল উলুম হামিদিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৭৫১) এবং দক্ষিণ সালেহপুর হামিদুলিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৪২৯)।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ এবং ওয়াকফ প্রশাসনের কোনো তোয়াক্কা না করে শাহরিয়ার মাহমুদ ওয়াকফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল করে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি, শৌচাগার ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। একইভাবে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এবং অকার্যকর কমিটির দোহাই দিয়ে ভুয়া রশিদ বইয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে অর্থ উত্তোলন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন তিনি। সরকারি তদন্ত দল সরেজমিনে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে এতদিন তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বক্তারা আরও বলেন, ঢাকায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর ও হামলার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সম্প্রতি শাহরিয়ার মাহমুদ গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর এলাকার ভুক্তভোগী নিরীহ মানুষ ও মুসল্লিরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। শাহরিয়ার মাহমুদ বর্তমানে কারান্তরীণ থাকা অবস্থায় যেন তার এই দীর্ঘ দিনের দখলদারিত্ব ও ভীতি প্রদর্শনের অবসান ঘটিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার এবং তাকে ভূমিদস্যুতার অপরাধেও যথাযথ আইনি আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও স্থাপনায়ও ভাঙচুর হয়।

এ ঘটনায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিউগিনি আবসন প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া মামলা করেন। মামলার এজাহারভূক্ত এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ। তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

পুলিশ জানিয়েছিল, ওই স্থানটি দখল করে দেওয়ার দায়িত্ব নেন শাহরিয়ার মাহমুদ। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে তিনি ওই প্রকল্পে অতর্কিত তাণ্ডব চালান। এতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের কার্যালয় ‘ব্রাউনফিশ’সহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়; যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা।

শাহরিয়ার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি দখলের খবর আসতে থাকে গণমাধ্যমে। এর মধ্যে তার এলাকায় থেকেও একই অভিযোগ উঠেছে।

তিনি কারাবন্দী থাকায় বিষয়টি নিয়ে জানতে নোয়াখালী সদর উপজেলার সালেহপুর গ্রামে শাহরিয়ারের বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সেখানে অনেকে উত্তেজিত আচরণ শুরু করেন।

এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগে কথা হয় শাহরিয়ার মাহমুদের জেঠাতো ভাই আবদুল বাসেতের সঙ্গে। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। শাহরিয়ার মাহমুদের বাবা একজন আইনজীবী ও সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তার হাতে এসব মসজিদ-মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠে। পরে শাহরিয়ার মাহমুদ প্রতিষ্ঠানগুলোর দেখাশোনা করতেন। তিনি ঢাকা চলে যাওয়ার পর একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।

শাহরিয়ার মাহমুদের নাতি তাহসিন বলেন, দাদার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

স্থানীয় নোয়ান্নই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল হক বলেন, ২০২৪ সালের পাঁচ আগস্টের পর থেকে শাহরিয়ার মাহমুদ এলাকায় নেই। আগে তিনি মসজিদ ও মাদ্রাসার কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।