Advertisement

ট্রাকচালককে মারধরের অভিযোগ, ময়লা নেওয়া বন্ধ করলেন শ্রমিকরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ফরিদপুর
ট্রাকচালককে মারধরের অভিযোগ, ময়লা নেওয়া বন্ধ করলেন শ্রমিকরা
পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা অপসারণ বন্ধ রাখায় ফরিদপুর শহরের একটি মোড়ে সড়কজুড়ে স্তূপ হয়ে পড়ে রয়েছে আবর্জনা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ফরিদপুর পৌরসভার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে এক ট্রাকচালক মারধরের শিকার হওয়ার প্রতিবাদে শহরের তিতুমীর বাজার ও চকবাজার এলাকার বর্জ্য অপসারণ বন্ধ করে দিয়েছেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ট্রাকচালকেরা। হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বাজার দুটির ময়লা পরিবহন করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

Advertisement

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে চকবাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে কতিপয় ব্যবসায়ীর হামলার শিকার হন পৌরসভার ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিক (২৮)। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোরে তিন টন ধারণক্ষমতার একটি ময়লাবাহী ট্রাক চারজন শ্রমিক নিয়ে দুই দফায় তিতুমীর বাজার ও চকবাজার এলাকার পাঁচটি স্থান থেকে রাতের জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করে। তবে চালক ও শ্রমিকেরা ধর্মঘট পালন করায় বুধবার সকাল থেকে ফলপট্টি, থানার মোড়, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনের মোড়, ময়রাপট্টি এবং আলীমুজ্জামান সেতু সংলগ্ন এলাকায় ময়লার বিশাল স্তূপ জমে উঠেছে। এতে দুর্গন্ধে দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ফরিদপুর পৌরসভার কনজারভেন্সি বিভাগের পরিদর্শক বিভাষ দত্ত জানান, মঙ্গলবার রাতে পৌরসভায় জরুরি বৈঠক করে চালক ও শ্রমিকেরা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই বাজারের ময়লা পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। বুধবার সকালে পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাদের কাজে ফেরার অনুরোধ জানালেও তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় আহত ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিক বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে এজাহারভুক্ত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। আশা করছি দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এদিকে ময়লা অপসারণ বন্ধ রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চকবাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম কিবরিয়া বলেন, পৌরসভার মতো সেবা বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ সাধারণ জনগণকে জিম্মি করা। হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নিক—এতে ব্যবসায়ীদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এভাবে জনসেবামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

গত রোববার (৯ আগস্ট) থেকে ফরিদপুর পৌরসভা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার অভিযানের তৃতীয় দিনে চকবাজার এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার সময় ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিক মারধরের শিকার হন।