সুন্দরবনে ফের বনদস্যু আতঙ্ক, দুদিনে ২১ জেলে অপহরণ

সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে একটি ফিশিং ট্রলারসহ ১৫ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু মজনু বাহিনী। এর আগে আরও ছয় জেলেকে অপহরণের ঘটনায় দুদিনে মোট ২১ জেলে অপহৃত হয়েছেন। এতে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভাঙ্গা, আমবাড়িয়া ও নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় ১৫ জেলেকে অপহরণ করা হয়।
বন বিভাগ জানিয়েছে, অপহৃত জেলেদের মধ্যে ১০ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন—আরিফ (২৫), সগীর (৩৪), মিঠু (৩০), ফেরদাউস (২৮), ইব্রাহিম (৩৫), ইমরান (২৫), মোস্তাফিজ (৩৫), আল-আমিন (২৮), হানিফ (৩৮) ও মারুফ (৪৯)।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত জেলেদের বাড়ি খুলনা এবং বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকায়। তারা বন বিভাগের কাছ থেকে পাস-পারমিট নিয়ে চাঁই, পোকাজাল ও বড়শি দিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে মাছ ধরছিলেন।
এর আগে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সুন্দরবনের নারিকেলবাড়িয়া, কালামেয়া, আমবাড়িয়া ও ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে আরও ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়। বন বিভাগ বলছে, ওই ঘটনায় মজনু বাহিনী ও কিরম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা জড়িত।
অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি বনদস্যু দমনে কার্যকর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন সুন্দরবনের দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, শনিবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়িয়া ও নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেদের বহরে হামলা চালায় মজনু বাহিনীর সদস্যরা। দস্যুরা একটি ফিশিং ট্রলারসহ ১৫টি নৌযান থেকে একজন করে মোট ১৫ জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে সুন্দরবনের গভীরে নিয়ে যায়।
