logo

একদিকে বাজারে সংকট, অন্যদিকে অবৈধ মজুত

একদিকে বাজারে সংকট, অন্যদিকে অবৈধ মজুত

বিভিন্ন খুচরা বাজারে ভোজ্যতেল সংকটের খবর সামনে এসেছে। এ ছাড়া তেলের দাম বাড়ানোর জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে। এসবের মধ্যে জানা গেল–যশোরে একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে ৪৩ হাজার ৬৫৬ লিটার ভোজ্যতেল অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে মেসার্স নওয়াব মিলস নামের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।

দেশের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) থেকে প্রতি লিটার তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর জন্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে। 

কয়েক দিন আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রস্তাব দেয়–প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা নির্ধারণের জন্য। বর্তমানে বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৯৫ টাকা। 

মিল মালিকদের প্রস্তাবের পর দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দামের সামঞ্জস্য যাচাই-বাছাই করছে সরকার। এ নিয়ে মিল মালিকদের সঙ্গে আগামী রোববার বৈঠক করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

যশোরে অবৈধ মজুত
বুধবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অভিযানে দেখা যায়, যশোরে শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠাটিতে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন, পাম ও সুপার তেলের অবৈধ মজুত রাখা হয়েছে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, মিলটিতে ৮৪টি ব্যারেলে ১৭ হাজার ১৩৬ লিটার সয়াবিন তেল, ৯০টি ব্যারেলে ভর্তি ১৮ হাজার ৩৬০ লিটার পাম ওয়েল এবং ৪০টি ব্যারেলে ৪ হাজার ১৬০ লিটার সুপার তেল মজুত ছিল। মজুত রাখা সয়াবিন তেলের বাজার মূল্য ৩৪ লাখ ২৭ হাজার ২০০, পাম ওয়েলের ৩১ লাখ ৫৭ হাজার এবং সুপার তেলের বাজার মূল্য ১৫ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা। সবমিলিয়ে ৮০ লাখ ৯৪ হাজার ৭২০ টাকা মূলের তেলের মজুত পাওয়া যায় মিলটিতে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-৬ যশোরের অধিনায়ক মেজর ফজলে রাব্বি ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান। 

মেজর ফজলে রাব্বি বলেন, মিলটির মালিক হাসিব ইমামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া তার কাছ থেকে তেল দ্রুত বিক্রির ব্যাপারে মুচলেকা নেওয়া হয়।