ফেনীতে ঝোপে মিলল ওড়নায় মোড়ানো নবজাতক

ফেনীতে রাস্তার পাশের একটি ঝোপ থেকে এক নবজাতক কন্যাসন্তান উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ফেনী পৌর এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের চাড়িপুরের মুন্সিবাড়ির প্রাঙ্গণ থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে একই দিন বিকেলে শিশুটিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কে বা কারা নবজাতকটিকে ঝোপের ভেতর ফেলে রেখে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাড়িপুরের মুন্সিবাড়ির সংলগ্ন ঝোপের ভেতর থেকে এক নবজাতকের কান্নার শব্দ পেয়ে তাছলিমা আক্তার নামের এক নারী এগিয়ে যান। সেখানে তিনি ওড়না দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় সদ্য ভূমিষ্ঠ এক কন্যাসন্তানকে দেখতে পান।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তাছলিমা আক্তার জানান, শনিবার সকালে ফজরের নামাজ শেষ করার পর জানালা খুলতেই তিনি শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে তার প্রবাসী স্বামীকে দেখালে তিনি দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন। এরপর শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাছলিমা আক্তার আরও জানান, তার দুই ছেলে থাকলেও কোনো কন্যাসন্তান নেই, তাই তিনি শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রোকন-উদ-দৌলা বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে সেবিকাদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কুইক রেসপন্স টিমের সংগঠক জয় আবির জানান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা নবজাতকের দেখাশোনা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে কাজ করছেন। শিশুটিকে দেখার পাশাপাশি দত্তক নেওয়ার আগ্রহ নিয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভিড় করছেন।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ এশিয়া পোস্টকে জানান, দুপুর ১২টার দিকে এক নারী নবজাতকটিকে নিয়ে থানায় আসেন। শিশুটি অসুস্থ থাকায় এবং তার পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। বিকেলের দিকে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শিশুটি সুস্থ হলে তার আইনি অভিভাবকত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


