logo
Advertisement

চিকিৎসক সংকটে ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভোগান্তি চরমে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ধামরাই
চিকিৎসক সংকটে ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভোগান্তি চরমে
ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঢাকার ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও চিকিৎসক সংকটে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ শয্যার সমান রোগী ভর্তি থাকেন।

Advertisement

একদিকে চিকিৎসক সংকট ও ওষুধের অভাব, অন্যদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে সেবা। সব মিলিয়ে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই এক ‘রোগী’।

তবে চিকিৎসকদের দাবি, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বাড়ায় রোগীর চাপ বেড়েছে, কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আয়তনের দিক থেকে ধামরাই ঢাকা জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা। এ উপজেলায় বসবাস করেন পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। এই জনসংখ্যার চিকিৎসায় সরকারিভাবে রয়েছে মাত্র একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, যেখানে এসে রোগীদের প্রতিনিয়ত নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বহির্বিভাগে (আউটডোর) চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। তীব্র লোডশেডিং এবং টিকিট লাইনের স্থানে ফ্যান না থাকায় গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। বিপুল সংখক রোগীর বিপরীতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে একজন চিকিৎসকের পক্ষেও সবাইকে মানসম্মত সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা অনিক মিয়া জানান, চিকিৎসক দেখানোর পর পরবর্তী ধাক্কা আসে ওষুধের কাউন্টারে। নিয়ম অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত স্টক না থাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ মিলছে না। তার প্রেসক্রিপশনে ৭টি ওষুধ লেখা থাকলেও তিনি পেয়েছেন মাত্র ২টি।

এদিকে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের অন্তর্বিভাগের (ইনডোর) চিত্র আরও ভয়াবহ। ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগী কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র বেড সংকট। বাধ্য হয়ে নোংরা মেঝেতেই শয্যা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। তার ওপর যোগ হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। বিদ্যুৎ চলে গেলেই তাপদাহে ছটফট করতে দেখা যায় সাধারণ ও শিশু রোগীদের।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা জানান, সকালে একবার চিকিৎসকের দেখা মিললেও সারাদিনে আর কাউকেই পাওয়া যায় না। জরুরি যে কোনো প্রয়োজনে নার্সরাই তাদের শেষ ভরসা। এ ছাড়া সরকারি খরচে নামমাত্র মূল্যে এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র রোগীরা। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে এক্স-রেসহ প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা বন্ধ থাকায় চড়া দামে বাইরের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও ফিল্ড স্টাফসহ মোট ১৩৫টি পদের মধ্যে প্রায় ৩০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া ৯ জন চিকিৎসক প্রাক্কলিত পদে না থেকে ডেপুটেশনে (সংযুক্তিতে) ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। প্যাথলজি বিভাগেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সাধারণ রোগীদের নিয়মিত বাইরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহমেদুল হক তিতাস জানান, আমাদের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক বর্তমানে সংযুক্তিতে ঢাকায় কর্মরত আছেন। হাসপাতালে সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর চাপ বহুগুণ বেড়েছে। মূলত ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন আমাদের ১২০০ থেকে ১৫০০ জন সেবাগ্রহীতাকে সেবা দিতে হচ্ছে। জনবল ও চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।