logo

পাহাড়, ঝরনা ও সূর্যাস্ত দেখতে শেরপুরের কোথায় যাবেন

পাহাড়, ঝরনা ও সূর্যাস্ত দেখতে শেরপুরের কোথায় যাবেন
ছবি: এশিয়া পোস্ট

কোরবানির ঈদের দীর্ঘ ছুটি মানেই পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে একটু প্রকৃতির কাছে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ। আর সেই সুযোগকে স্মরণীয় করে তুলতে ঘুরে আসতে পারেন উত্তরাঞ্চলের সবুজে ঘেরা অপরূপ জনপদ শেরপুরের গারো পাহাড়ে। পাহাড়, ঝরনা, বনভূমি, লেক আর নির্মল প্রকৃতির মায়ায় ঘেরা এই অঞ্চল এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্র। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে স্বল্প খরচে দারুণ সময় কাটানোর জন্য এটি হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।

ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নে প্রায় ৯০ একর জায়গাজুড়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্র শেরপুরের পর্যটনের প্রাণকেন্দ্র। চারদিকে সবুজ পাহাড়, উঁচু-নিচু টিলা, শাল-গজারি বন আর পাহাড়ি পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে মুহূর্তেই। এখানে রয়েছে ছোট ছোট ঝরনা, লেক, ভাসমান সেতু, ঝুলন্ত সেতু, ক্যাবলকার, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি ট্রেন, শিশুদের জন্য নানা রাইড ও দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। গারো সংস্কৃতির ছোঁয়াও পাওয়া যায় পুরো এলাকায়। ঈদের ছুটিতে হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এই বিনোদন কেন্দ্র।

অন্যদিকে বন বিভাগের উদ্যোগে নালিতাবাড়ী উপজেলায় গড়ে উঠেছে মধুটিলা ইকোপার্ক। এই পার্কটি যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য স্বর্গরাজ্য। প্রায় ৩৮০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই ইকোপার্কে রয়েছে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার সিঁড়ি, মনোরম লেক, বোটিং, ওয়াচ টাওয়ার, স্টার ব্রিজ, শিশু পার্ক ও বিশ্রামাগার। ঘন বন আর পাহাড়ি পরিবেশের মাঝে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা কিংবা ঠান্ডা বাতাসে হাঁটার অনুভূতি পর্যটকদের মনে এনে দেয় এক অন্যরকম প্রশান্তি। পরিবার নিয়ে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য এটি হতে পারে চমৎকার একটি জায়গা।

এ ছাড়া শ্রীবরদী উপজেলার রাজার পাহাড়, নয়াবাড়ির টিলা, রাবার বাগান, সদরের অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র এন্ড রিসোর্ট, গোল্ডেন ভ্যালি পার্ক, বনরাণী ফরেস্ট রিসোর্ট, বারোদুয়ারী মসজিদ, নাকুগাঁও স্থলবন্দর,নারায়ণখোলা শিমুল গাছ, পানিহাটা-তারানি পাহাড়, পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি লোকনাথ মন্দির ও রঘুনাথ জিঁউ মন্দির। ঐতিহ্য, প্রকৃতি আর পাহাড়ি সৌন্দর্যের এক অনন্য সমন্বয় দেখা যায় পুরো জেলাজুড়ে।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শেরপুরগামী বিভিন্ন বাসে সরাসরি যাওয়া যায়। এ ছাড়া মাইক্রোবাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতেও সহজে পৌঁছানো সম্ভব। ঢাকা থেকে শেরপুর যেতে সময় লাগে প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর থেকে জামালপুর পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে বাস, সিএনজি বা অটোরিকশায় মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে পৌঁছে যেতে পারবেন শেরপুরে।

থাকার ব্যবস্থা

দর্শনীয় স্থানগুলো সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় সেখানে রাতযাপনের সুযোগ সীমিত। তাই রাতে থাকার জন্য শেরপুর জেলা শহরই সবচেয়ে উপযুক্ত। এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি ভালো মানের আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজ ও সরকারি ডাকবাংলো। ঈদের আনন্দ হোক প্রকৃতির ছোঁয়ায় ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি দূর করতে ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে আসুন শেরপুরের গারো পাহাড়ে। পাহাড়ের সবুজ, বনভূমির শীতলতা আর নির্মল প্রকৃতি আপনাকে এনে দেবে এক অনাবিল প্রশান্তি।

মধুটিলা ইকোপার্কের ইজারাদার মজিবুর রহমান বলেন, ঈদের আগে আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এখন পর্যটক বরণ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলে অনেক কিছু পরিবর্তন করেছি। অনেক সংস্কার কাজও করেছি। নতুন নতুন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। যা পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ দেবে।

গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্রে ইজারাদার ফরিদ মিয়া বলেন, আমরা পর্যটকদের জন্য নতুন নতুন রাইড যুক্ত করেছি। প্রকৃতি পাহাড় দেখতে মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসেন। আমাদের গজনীর ভেতরের রাস্তাটি নতুন হয়েছে। সারাবছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন এই পাহাড়ে। তবে, ঈদের ছুটিতে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি হয়।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, পর্যটনের আনন্দে, তুলশীমালার সুগন্ধে এ শ্লোগানে শেরপুর জেলাকে ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। জেলার পর্যটনখাত এখন অনেকটাই এগিয়ে। ইতোমধ্যে ইজারা দিয়ে আমাদের গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্রটি সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। এখানে নতুন নতুন রাইড যুক্ত করা হয়েছে। আরো সমৃদ্ধ করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।