logo

দলত্যাগী এনসিপি নেতা জ্যোতি চাকমাকে ঘিরে নতুন গুঞ্জন

দলত্যাগী এনসিপি নেতা জ্যোতি চাকমাকে ঘিরে নতুন গুঞ্জন
বিপিন জ্যোতি চাকমা। ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির রাজনীতিতে বিপিন জ্যোতি চাকমাকে ঘিরে নতুন গুঞ্জন সৃস্টি হয়েছে। তাকে দেখা যেতে পারে গণঅধিকার পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে–এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে দলের ভেতর থেকে। তবে গণঅধিকার পরিষদে যোগদানের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করেননি বিপিন জ্যোতি চাকমা। দলটিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

গণঅধিকার পরিষদের একাধিক নেতা শনিবার (১৬ মে) এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন–বিপিন জ্যোতি চাকমার সম্মতিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একামেডিতে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দিয়েছেন। শনিবার জেলা কমিটি ষোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের রাঙামাটির সাবেক আহ্বায়ক আবুল বাশার বর্তমানে জেলায় দলের সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন। তিনি জানান, সমন্বয় সভা শেষে বিভিন্ন দল থেকে আসা নেতাকর্মীদের যোগদান অনুষ্ঠান ছিল। এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিপিন জ্যোতি চাকমার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাঙামাটিতে অবস্থান করছেন। যারা দলে যুক্ত হয়েছেন, তাদের বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

গণঅধিকার পরিষদে যোগদান

দলীয় সূত্রমতে, গণঅধিকার পরিষদে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন–বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির যুব সংগঠন যুব সংহতি রাঙামাটির সভাপতি পলাশ চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক চীরজিৎ চাকমা, দপ্তর সম্পাদক সাগর চাকমা ও প্রচার সম্পাদক অভিলাস চাকমা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য জলমনি চাকমা ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতা মো. কামাল।

যোগদান অনুষ্ঠানের আগে সমন্বয় সভায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, পাহাড় থেকে সমতল–সবার অধিকার নিশ্চিতে আমরা কাজ করব। সবাই এ দেশের নাগরিক। জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন করা আমাদের মূল লক্ষ্য।

উচ্চতর পরিষদের আরেক সদস্য সাবিক হোসাইন বলেন, আমরা বিএনপির সঙ্গে ২০২৩ সাল থেকে যুগপৎ আন্দোলন করেছি। সেই জায়গা থেকে তাদের সঙ্গে নির্বাচনে আমাদের সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা কাজ করে যাব।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, গণঅধিকার পরিষদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রেখে কাজ করছে। পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা গণঅধিকার পরিষদে সাবেক আহ্বায়ক আবুল বাশার, সদস্য সচিব ওয়াহিদুজ্জামান রোমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি রুদ্র মুহম্মদ জিয়াদ,রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি ইমাম হোসাইন ইমু, সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল, জয় বড়ুয়া প্রমুখ।

গণঅধিকার পরিষদের সমন্বয় সভা। ছবি: এশিয়া পোস্ট
গণঅধিকার পরিষদের সমন্বয় সভা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আলোচনায় জ্যোতি চাকমা

রাঙামাটির রাজনীতিতে বারবার আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিপিন জ্যোতি চাকমা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতি থেকে দুইবার সরে দাঁড়ানোর রেকর্ড রয়েছে তার। শুরুতে রাঙামাটিতে প্রধান সমন্বয়কারী থাকা অবস্থায় গত বছরের ৩০ নভেম্বর দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। ‘মানসিক চাপের’ কথা উল্লেখ করে তিনি ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন।

সেই কমিটি বিলুপ্তির পর জেলায় আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ পদেই বিপিন জ্যোতি চাকমাকে দেখা যায়। কমিটির আহ্বায়ক থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দিয়ে চলতি বছরের ১১ মার্চ নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তিনি। পরে গণমাধ্যমকে জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তিনি আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পাঠাবেন। তবে দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি থাকবেন বলে জানান।

চলতি মে মাসের শুরুতে বিপিন জ্যোতি চাকমা আবার আলোচনায় আসেন–গণসংহতি আন্দোলনে যোগদানের খবর ছড়ানোর মধ্য দিয়ে। ৬ মে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির রাঙামাটি জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা গণসংহতি আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। পরে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন–গণসংহতি আন্দোলনে যোগদানের খবর সঠিক নয়।

এবার অবশ্য গণঅধিকার পরিষদে যোগদান এবং পদায়ন ঘিরে গুঞ্জন উড়িয়ে দেননি বিপিন জ্যোতি চাকমা। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, সমন্বয় সভা ছিল গণঅধিকার পরিষদের। আমিও সেখানে অংশগ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, তারা আমাকে দলে যোগদান করতে বলেছে। বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। তাদের আরও কার্যক্রম দেখে সক্রিয় হব।

অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন রাঙামাটি জেলা কমিটির গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সদস্য সচিব ওয়াহিদুজ্জামান রোমান। তিনি বলেন, বিপিন জ্যোতি চাকমা দলে যোগ দিয়েছেন। তাকে পদায়ন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জেলার শীর্ষ পদ দাবি করেছেন। একই পদ নিয়ে সাবেক আহ্বায়কেরও আগ্রহ রয়েছে।