logo

ফরিদপুরে ২৪ বস্তা ভর্তুকির সারসহ নসিমন আটক, ডিলারকে জরিমানা

ফরিদপুরে ২৪ বস্তা ভর্তুকির সারসহ নসিমন আটক, ডিলারকে জরিমানা
ফরিদপুরের সালথায় সারের নসিমন আটকের পর ডিলারকে অর্থদণ্ড দিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি : এশিয়া পোস্ট

কৃষকদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে বরাদ্দ করা সার নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে দিতে নিয়মিত তদারকি করছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে ফরিদপুরের সালথায় নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে অন্যত্র সার নেওয়ার অভিযোগে ২৪ বস্তা সারসহ একটি নসিমন আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্তকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের কানাইপুর সড়কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নসিমনটি আটক করা হয়। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারায় ডিলার সুভাষ দত্তকে এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি বাজারে বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্তের দোকান থেকে গোড়দিয়া বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা ওহিদের কাছে ২৪ বস্তা সার হস্তান্তর করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সারগুলো গোড়দিয়া বাজারে যাওয়ার কথা ছিল।

তবে প্রশাসনের কাছে তথ্য আসে, নির্ধারিত গন্তব্য গোড়দিয়ায় না নিয়ে সারগুলো কানাইপুরের দিকে নেওয়া হচ্ছে। পরে বিষয়টি যাচাই করতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় কানাইপুর সড়ক থেকে ২৪ বস্তা সারসহ একটি নসিমন আটক করা হয়।

অভিযানের সময় নসিমনের চালক এরশাদের কাছে সার পরিবহনের সংশ্লিষ্ট কোনো রশিদ পাওয়া যায়নি। পরে ডিলার সুভাষ দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরপর তাঁকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রের বাইরে সার নেওয়া হচ্ছিল কেন? একই সঙ্গে কানাইপুর বাজারে সুভাষ দত্তের একটি সিমেন্টের দোকানের আড়ালে ভর্তুকির সার রাখা বা বিক্রির যে অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে আটক ২৪ বস্তা সারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে সুভাষ দত্ত বলেন, তার ডিলার পয়েন্ট থেকে সাব-ডিলারদের দেওয়ার জন্যই ২৪ বস্তা সার নেওয়া হচ্ছিল। পথে উপজেলা প্রশাসন নসিমনটি আটক করে এবং তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কানাইপুরের সিমেন্টের দোকানে সার বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই ঘরে তিনি বিভিন্ন কীটনাশক সামগ্রী বিক্রি করেন, সার বিক্রি করেন না। তবে মাঝেমধ্যে ওই ঘরে সার এনে রাখা হয় বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এ কারণে নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে সার পরিবহন, পরিবহনের সময় রশিদ না থাকা এবং কানাইপুরে সার রাখার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে কানাইপুরের দোকানে ভর্তুকির সার নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তদন্তের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার সুষ্ঠু ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এরপরও যদি এ ধরনের আচরণ করা হয়, তাহলে তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।

অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি উপস্থিত ছিলেন।